দ্বন্দ্ব ও উন্নয়ন (Conflict and Development)

উন্নয়নকর্মী হিসেবে একটা জিনিস বারবার ভাবিয়েছে। আমরা বারবার ‘না ঘর কা না ঘটকা’ অবস্থানে থাকি। এড়িয়ে চলি সকল ধরনের ঝামেলা  বা দ্বন্দ্ব। কিন্তু দ্বন্দ্ব ছাড়া যেখানে আমাদের জীবনের কোন কাজই সম্ভব নয়। সেখানে সমাজ পরিবর্তন বা উন্নয়ন কীভাবে সম্ভব। খাদ্য গ্রহণ থেকে ত্যাগ, চলাফেরা, বিনোদন সব কিছুর সাথে দ্বন্দ্ব বা দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক বিদ্যমান। সুতরাং উন্নয়ন বা সমাজ এর ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য যদি সমাজে বা প্রকৃতিতে বিদ্যমান অপরিহার্য দ্বান্দ্বিক সম্পর্ককে এড়িয়ে বা পাশ কাটিয়ে কী আদৌও সম্ভব!

দ্বন্দ এবং উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করার আগে দ্বন্দ্ব কে নিয়ে একটু নাড়াচড়া করা জরুরি। প্রথমেই জেনে নেই দ্বন্দ্ব এর সংজ্ঞা এবং ধরণ সমূহ।
Conflict শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ হিসেবে বহুল ব্যবহৃত হয় ‘দ্বন্দ্ব’ শব্দটি। দ্বন্দ্ব বলতে বুঝায় সংঘাত, ঝগড়া, বিবাদ, যুদ্ধ বা শত্রুতা; দ্বিধা বা সংশয়। দ্বন্দ্ব হলো বৈপরীত্য বা Contradiction। দ্বন্দ্ব একটি সমাজ এবং সংস্কৃতিতে গতিশীলতা দান করে। সবকিছু নিয়ত গতিশীল, তা সে অণু-পরমাণুই হোক কিংবা গ্রহ-নক্ষত্র। আমরা আমাদের সীমিত খালি চোখে তা সবসময় অনুধাবন করি না। এবং এই গতিশীলতার মধ্যে বৈপরীত্য কাজ করে। আর এই দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়েই সবকিছুর বিকাশ হয়। সে জন্যই কোন কিছু বিকাশের কিংবা পরিবর্তনের পথ কখনো মসৃণ হয় না। ধীরে ধীরে জড়ো হওয়া ছোট ছোট পরিবর্তন হঠাৎ করে বড় পরিবর্তনের সূচনা করে।

দ্বন্দ্ব বলতে বোঝায় একটি দলের এক বা একাধিক সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্য, বিরোধ, সংঘর্ষ প্রভৃতি বিশ্বাস বা কাজের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। তবে দ্বন্দ্ব দু’টি দলের মধ্যেও হতে পারে। দ্বন্দ্ব যখন একই দলের মধ্যে সংঘঠিত হয় তখন তাকে আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বলে। আর যদি দ্ইু বা ততোধিক দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব হয় তখন সেটিকে আন্তঃদলীয় দ্বন্দ্ব বলা হয়। দ্বন্দ্বকে দেখা হয় পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া হিসেবে। অর্থাৎ দ্বন্দ্ব কোন স্থায়ী ও অনড় নয়। যদি দ্বন্দ্ব সমঝোতায় আসে তাহলে দলের সদস্যরা পুনরায় আগের কাজগুলো করতে থাকে। সমঝোতা না হলে নতুন একটি বিষয় বা ঘটনার সূচনা হয়।
মানুষ এবং দ্বন্দ্ব (সামাজিক দ্বন্দ্ব)
মানুষের সৃষ্টি থেকেই দ্বন্দ্বের শুরু। কখনো সে নিজের সাথে। কখনো বা অন্যের সাথে। আমাদের চারপাশের প্রতিদিনকার ঘটনাগুলো লক্ষ্য করলে আমরা দ্বন্দ্বের নানারূপ দেখতে পাই। কিছু সাধারণ দ্বন্দে¦র রূপ হচ্ছে-গোত্র-গোত্র দ্বন্দ্ব, জাতিগোষ্ঠী দ্বন্দ্ব, নারী-পুরুষ, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, মতাদৈর্শ্বিক দ্বন্দ্ব  (বামপন্থী বনাম ডানপন্থী), মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্ব (গার্মেন্টস কর্মী এবং মালিক)। কখনো কখনো এই দ্বন্দ্বের কারণ হয় বস্তুগত উপাদান নিয়ে। যেমন: প্রাকৃতিক সম্পদ ভূমি নিয়ে চরাঞ্চলগুলো প্রায়ই দ্বন্দ্ব লেগে থাকে। আবার সাংস্কৃতিক উপাদান নিয়েও দ্বন্দ্বের সংখ্যা কম নয়। উদাহরণ হিসেবে ভাষা নিয়ে দ্বন্দ্ব, সম্মান-প্রতিপত্তি নিয়ে, ধর্ম নিয়ে, প্রভৃতি।
দ্বন্দ্বের বৈচিত্রতা 
দ্বন্দ্বকে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয়। ধারণা করা হয়, শুধুমাত্র মানুষে মানুষেই দ্বন্দ্ব হয়ে থাকে। কিন্তু প্রকৃতির প্রায় অধিকাংশ বিষয়ের সাথে দ্বন্দ্ব অপরিহার্য একটি বিষয়। মানুষে মানুষে যেমন দ্বন্দ্ব থাকে তেমনি দ্বন্দ্ব হয় মানুষ এবং প্রকৃতির সাথে। আবার প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানের সাথে দ্বন্দ্বের প্রকৃতি এবং পদ্ধতি এক নয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মানুষ এবং প্রাণীর মধ্যে যে ধরনের দ্বন্দ্ব ক্রিয়াশীল, মানুষ এবং উদ্ভিদের সাথে ভিন্ন ধরনের দ্বন্দ্ব ক্রিয়াশীল। আবার ভৌত উপাদান মাটি, পানি, বায়ুর সাথে ভিন্ন ধরনের দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। আমরা যদি বায়ুকে দূষিত করে ফেলি আমাদের বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে তাহলে একসময় ওই বায়ু আর আমাদের জীবন প্রদায়ী না হয়ে হুমকির কারণ হয়ে যায়। তখন আমরাই আবার নানাভাবে সেই বায়ুকে নিজেদের জীবন উপযোগী করে তোলার চেষ্টা করি।


মানুষ ছাড়াও অন্যান্য জৈবিক এবং ভৌত পরিবেশের একটি উপাদানের সাথে অন্যটির নানা ধরনের দ্বন্দ্ব বিরাজ করে। আবার একটি প্রাণীর সাথে উদ্ভিদের যে দ্বন্দ্ব, সেটি উদ্ভিদে-উদ্ভিদে বা প্রাণীতে-প্রাণীতে ভিন্ন হয়। আবার একই উদ্ভিদ বা প্রাণীর মধ্যে প্রজাতি ভেদেও দ্বন্দ্ব বিদ্যমান থকতে পারে। সবশেষে পরিবেশের ভৌত বা জৈবিক উপাদানের সাথে জড় উপাদানের মধ্যেও দ্বন্দ্ব ক্রিয়াশীল। আবার জড় বস্তুর মধ্যেও বিভিন্ন ধরনের দ্বন্দ্ব ক্রিয়াশীল থাকতে পারে। যেমন: প্রযুক্তি হিসেবে লাঙল এর ব্যবহার কমে যায় যখন কৃষি ক্ষেত্রে পাওয়ার ট্রিলার এর আর্বিভাব হয়। অন্যদিকে জড় বস্তুর ব্যবহারের সাপেক্ষে পরিবেশের জৈবিক উপাদানের সাথে দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক তৈরি হয়। পাওয়ার ট্রিলার দিয়ে ভূমি কর্ষণের ফলে মাটিস্থ কেঁচোসহ অন্যান্য উপকারী কীট-পতঙ্গ নষ্ট হচ্ছে। আবার কার্বন নিঃসরণের মাধ্যমে বায়ু দূষণও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
দ্বন্দ্ব এবং উন্নয়ন
দ্বন্দ্বকে যদি পরিবর্তনের প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হয়। আর উন্নয়ন যদি আর্থ-সামাজিক নির্দেশকের ইতিবাচক পরিবর্তন হয়। তাহলে দ্বন্দ্ব উন্নয়নেরই একটি অংশ। আবার কোন একটি জনগোষ্ঠীর দ্বন্দ্বগুলো না বুঝতে পারলে সেই জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে। আর এই দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিবেচনা না করাই বুঝি কাংখিত উন্নয়নের পথে আমাদের সবচেয়ে বড় অন্তরায়। ধরা যাক, কোন একটি প্রান্তিক এবং সুবিধা বঞ্চিত(!) একটি জনগোষ্ঠীর জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হলো। কিন্তু, এখানে ওই জনগোষ্ঠীর সাথে আর যে সমস্ত জনগোষ্ঠীর দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক রয়েছে তারা উন্নয়ন পরিকল্পনার বাইরে থাকে। তাহলে প্রকল্পের কার্যক্রমগুলো কী আদৌও কার্যকর হবে?

অন্যদিকে উন্নয়নে যদি মানুষ-মানুষ ছাড়া প্রকৃতির অন্যান্য দ্বন্দ্ব গুলোকে বিবেচনা না করা হয়; তাহলে সেটি টেকসই উন্নয়ন হবে না। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে বরেন্দ্র এলাকার খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন করার জন্য ধান চাষভিত্তিক প্রযুক্তির অবতারণা এই প্রতিবেশীয় ধান এবং অন্যান্য প্রজাতি কিংবা পানি এবং মাটির যে সম্পর্ক সেটি ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া দিতে শুরু করেছে। কিংবা ধান চাষ বৃদ্ধির ফলে ঐ এলাকার অচাষকৃত খাদ্য হিসেবে বিবেচিত উদ্ভিদ প্রজাতির ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়েছে-সেটিও বিবেচনা করা জরুরি। যদি এই বিষয়গুলো বিবেচনা না করা হয় তবে সেটি তাৎক্ষণিক সুফল বয়ে আনলেও দীর্ঘমেয়াদে নানা ধরনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাবে।


উদাহরণ হিসেবে জেন্ডার উন্নয়ন বলতে এখনো পর্যন্ত প্রধানতম ধারণা হচ্ছে জেন্ডার মানেই নারী। যার সকল কিছুতে নারী সম্পৃক্ত থাকবে। অনেকটা এভাবে বলা যায়, নারীদের জন্য নারীদের দ্বারা পরিচালিত এবং বাস্তবায়িত উন্নয়ন কার্যক্রম। এখানে শুধু পুরুষরা বাইরে থাকে তাই নয়; অনেকাংশে পুরুষকে জেন্ডার সমতার পরিপন্থি বা অন্তরায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু, অন্যান্য বিষয়ের  মতো নারী পুরুষের সম্পর্ক চিরকালই দ্বন্দ্বিক। তাই জেন্ডার সমতার ক্ষেত্রে নারী পুরুষ এর দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক বিবেচনা করাটা আত্যাবশ্যকীয়।
পরিবেশ নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পে পরিবেশ ধ্বংসের জন্য যে সমস্ত স্টেকহোল্ডার দায়ী তাদেরকে অনেকটা ভিলেন হিসেবে বিবেচনা করে  প্রকল্প পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা হয়। যেমন পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো কখনোই কলকারখানার মালিক কিংবা এর সাথে জড়িত মানুষদের নিয়ে সেনসিটাইজেশন করার কোন উদ্যোগ আজও নজরে আসেনি। কিংবা শিশুশ্রম বা গৃহস্থলীতে শিশু নির্যাতন নিয়ে কাজ করার সময় যদি যে বাড়িতে শিশু কাজ করে তাদেরকে যদি বিবেচনায় না আনি তাহলে কাংখিত উন্নয়ন বা পরিবর্তন যাই বলি না কোন কোনটাই অর্জিত হবে কী?
পরিশেষে বলতে চাই, উন্নয়নকর্মী বা সমাজকর্মী যাই হই না কেন- আমাদের সমাজে এবং প্রকৃতিতে বিদ্যমান দ্বন্দ্বসমূহকে বুঝতে হবে এবং সেটিকে বিশ্লেষণ করার সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। আর আমরা যখন দ্বন্দ্বকে স্বাভাবিক এবং সার্বজনীন হিসেবে বিবেচনা করতে পারবো তখনই সমাজকে পরিবর্তন করতে সক্ষম হবো।

নোট: ছবিগুলো ইন্টানেট এর মুক্ত সোর্স থেকে সংগৃহীত।

পাপী

থাকতো যদি পাখা আমার – আমি হতাম পাখি,

কেবল আছে দু’খানি পা- তাই বুঝি আমি পাপী।


মন আছে বলেই আমি কক্ষনো নই মানুষ।

হাতের ব্যবহার আমায় করছে বেহুশ।


আমায় নিয়ে হাজার কথা- নিত্য সেথায় মাথা ব্যথা।

করছি কতো ইচ্ছে মতোন; পাগলামোয় জা- তা।


তার চেয়ে বেশ হতো ভালো- ধূলো মাখা মেঠো পথ,

ছুটতো না, হানাহানি- বিদ্বেষ আর খুনোখুনির রথ।

ইউথোনেশিয়া

আমি মরে যেতে চাই কোন এক বিষণ্ণ বিকেলে,
আমি মরে যেতে চাই এক্ষুনি- এই আকালে।
মরে যেতে চাই কোন এক নির্জন দুপুরে
ছায়া ঘেরা, গভীর অতল শান বাঁধানো পুকুরে।
মরে যেতে চাই – কেউ জানবে না-
অন্ত্যুস্টিক্রিয়াহীন- কেউ কাঁদবে না।
কোন বিরাম চিহ্ন নয়- নয় কোন উত্তরাধিকার-
নেবো না কিছুই- থাকবে না জমা-খরচ – হবে না
পারাপার।
সকল বোঝা, সকল দায়ভার নামিয়ে দেবো তৎখনাৎ-

মরে যেতে চাই হাসতে- খেলতে-চলতে হটাৎ। 

বিক্ষিপ্ত মন

মাথাটা ভোঁ ভোঁ করছে। তারচেয়ে বেশি বিক্ষিপ্ত মনটা- অস্থিরও বলা যায়। কোন কিছুতে মন বসছে না। কোন কিছুতেই না। হারিয়ে যাচ্ছি, কিংবা তলিয়ে যাচ্ছি। সবকিছুর চাপে। হাঁসফাঁস করছে-

আমি আমাকেই চিনতে পারছি না।
খুঁজে ফিরি নিজেকে এক নিজের সাজানো জনারণ্যে।
পাশে সবাই আছে, কিন্তু মনে হচ্ছে আমি একা-  একলা বনবাসে।
সীতাও নেই, নেই লক্ষ্মণ কিংবা গরুড় পাখি-
হনুমান তো কবেই নিজেই রাম বনে গেছে ভক্তির আদিখ্যেতায়।
চারপাশে সবাইকে রাম মনে হয়- আর আমি রাবণ।

খারাপ সম্পর্ক ভাল সম্পর্ক

প্রশ্নঃ একজন
মানুষের সাথে আর একজন মানুষের দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক কেন একটি ছোট কথা বা ঘটনার
মাধ্যমে নষ্ট হয়?
উত্তরঃ প্রত্যেকটি
সম্পর্কের সাথে সাথে সমান্তরাল এবং উলম্বিক ভাবে দুটি বিষয় যুক্ত থাকে। যথাঃ      ক) ভাল ঘটনা/কথা
     খ) খারাপ ঘটনা/কথা।
সম্পর্কের ধরণ এই দুটি বিষয়কে দুই ভাগে চিহ্নিত করে।একটিকে প্রচ্ছন্ন এবং
বিপরীত টিকে প্রকট। ভাল সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভাল ঘটনা/কথাকে প্রকট হিসেবে চিহ্নিত
করে এবং বিপরীতে খারাপ ঘটনা/ কথাকে প্রচ্ছন্ন হিসেবে চিহ্নিত করে।
খারাপ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঠিক উল্টোটা ঘটে থাকে।

কিন্তু দুটি ঘটনার গুরুত্ব কিংবা প্রভাব হয়তো একই। কিন্তু প্রচ্ছন্ন ঘটনা
গুলো জমতে থাকে এবং প্রকট গুলো প্রকাশ পেতে থাকে- হারাতে থাকে (প্রকাশ পেতে পেতে
সেটি বিলীন হয়ে যেতে পারে। মানে আমাদের কাছে সেগুলো স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপন হয়।)

এইভাবে চলতে চলতে  একটি কথা বা ঘটনা হাজারো
পুঞ্জিভূত খারাপ ঘটনা/ কথা বিগ ব্যাং এর মতো বিস্ফোরিত করে দেয়। ফলশ্রুতিতে
দীর্ঘদিনের ভাল সম্পর্কের ইতি ঘটে একটি খুবই আপাত সাধারণ ঘটনা বা কথার মাধ্যমে।
আবার সব ঘটনা/কথা কিন্তু এই বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম হয় না। কিংবা কখন এই
প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যগুলো বিস্ফোরিত হবে সেটি নির্ধারণ করে দেয় পরিবেশ এবং
পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন ঘটনা সমূহ।
অপরদিকে একটি ঘটনা বা কথা বিস্ফোরিত হবে কিনা সেটি নির্ধারিত হয় ঐ নির্দিষ্ট
ঘটনা বা কথাকে ঐ দুজন মানুষ কে কি ভাবে গুরুত্ব দিল তার উপর।
বিস্ফোরিত সম্পর্ক খারাপ হবে কি না কিংবা আবার ভাল সম্পর্কে ফিরে আসবে কীনা
সেটি নির্ভর করে কোন একজন বা উভয়ই ঐ একটি কথা কিংবা ঘটনাকে কিভাবে জিইয়ে রাখছে-তার
উপর।
যদি একজনও ঐ আপাত তুচ্ছ ঘটনা বা কথাকে তেল দিয়ে চকচকে করতে থাকে তাহলে আর
ফিরে আসবে না- নতুন সম্পর্কে মোড় নিবে?
-ঝড়ের পাখি   

জানুয়ারি, ২০১৫

তোমার চোখে আমি

ভেবে দেখ আমার ছাড়া তুমি ভীষণ অচল!
না পাও ভালবাসা, না পাও বল।

কে তোমাকে জ্বালাবে বল? চুল ধরে টান,
হটাৎ করে চেঁচিয়ে উঠে চমকে দেবে প্রাণ।
আমি তোমার টিউব লাইট, ভোলা, বোকা, হাদারাম;
ভাইবা দেখো করে দেই তোমার হাজারো কাম।

ঝড়ের পাখি
০৩-০১-১৪

আপেক্ষিক

বন্ধু হয়তো আমার কষ্ট তোমার কাছে তেমন বড় কষ্ট নয়;
কিংবা ধরো কষ্ট গুলো তোমার কাছে স্পষ্ট নয়।
কিংবা আমি সেল করি না, দেই না তেল নিত্য।
কষ্ট আমি লুকিয়ে রাখি, আমি কষ্টের ভৃত্য।
তাইতো তোমার কষ্ট গুলো সবার কাছে দৃশ্যমান।
আমার গুলো ধুলা পড়া, চুপসে যাওয়া- মৃয়মান।
তোমার যেমন কষ্ট আছে, আমার কষ্টও কম নয়,
কষ্টে আমি ক্লান্ত ভীষণ, কষ্ট বুকে বহমান।

সম্পর্ক-কানা

আমি সত্যি বড়ই ক্লান্ত। ঘর- বাহির সামলাইতে সামলাইতে। ভাল হওয়ার এক ব্যর্থ চেষ্টায় প্রতিদিন হয়ে যাচ্ছি খারাপ। কারো না কারো কাছে।
ভাল ছেলে, ভাল ছাত্র, ভাল মানুষ, ভাল বন্ধু, ভাল কর্মী, ভাল সন্তান, ভাল স্বামী হতে গিয়ে আমি আজ বড়ই ক্লান্ত।

খুব খারাপ হতে মন চায়। একদম পুরো দস্তুর এক খারাপ ছেলে। এত খারাপ যেন কেউ আমার কাছ থেকে ভাল কিছু আশা না করে।

বন্ধুরা অভিমান করে তাদের কেন খোঁজ নেই না। বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন তাদের একই অনুযোগ, শুভাকাঙ্ক্ষী তো দিন দিন কমতির পথে। আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকরাও পর্যন্ত এই অভিযোগ করতে থাকে।
কাজের সূত্রে প্রতিদিন ২/১ জনের সাথে পরিচয় ঘটে। তাদের আথিতেয়তা আর ভালবাসায় প্রতিদিন ঋণী হচ্ছি- দিনকে দিনকে।তাদেরও ঠিক মতো খোঁজ নেয়া হয়ে ওঠে না।

আমি আসলে পেরে উঠিনা। আমার হয়তো ধ্যাতে নেই।আমি বেশ সম্পর্ক কানা। আমি কোন সম্পর্ক ধরে রাখতে পারি না বা মেইনটেইন করতে পারি না।
কিংবা আমি মানুষের ভালবাসার মুল্য দিতে পারি না। কত মানুষ ভালবাসার ঋণে আবদ্ধ করে রেখেছে।কিন্তু তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা হয়ে ওঠে না। এই মুহূর্তে মনে পড়ছে তিন জন বন্ধুর মায়ের কথা- রাজু, জীবন আর সাগরের। তাদের তিন জনের সাথে আমার সম্পর্ক অল্প সময়ের। কিন্তু সেই অল্প সময়ের মধ্যেই এই তিনজন অনেক আপন করে নিয়েছেন। কিন্তু আমি এক হতভাগা পালিয়ে বেড়াই তাদের ভালবাসার বাঁধন থেকে। অসম্ভব এক চুম্বকীয় শক্তি আকর্ষণ করি তাদের প্রতি। আবার ছুটে চলে আসি দূরে। কেন- তার উত্তর নেই। তবে সত্যি বলছি- আমিও আপনাদের খুব ভালবাসি এবং মিস করি। কিন্তু আপনাদের ভালবাসায় বিলীন হয়ে জাওয়ার ভয়ে হয়তো পালিয়ে বেড়াই নিজের থেকে আরো যোজন-যোজন দূরে।

অনেকটা কাঁকতলিয় ভাবে পরিচিত হয়েছিলাম একজন অবসর প্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সাথে। তিনিও আমাকে বেশ ভালবাসলেন। আমি তাকে আমার এই ‘সম্পর্ক-কানা’ র কথা খোলাখুলি বললাম। তিনি আমাকে ভুল বুঝলেন। সকল ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলেন। আমি হয়তো তাকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছিলাম।

আমার সাথে খুব ভাল যোগাযোগ নেই আমার কর্মজীবনের শেষ তিন জন সুপারভাইজারের সাথে। হয়তো আমার দিক থেকে কোন ত্রুটি ছিল।তবে এতটুকু বলতে পারি- যখন একসাথে কাজ করতাম তখন কারোর সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটেনি।

আমি এক চরম ‘সম্পর্ক-কানা’।
-ঝড়ের পাখি
৩-১৩-১৬

স্রোতের বিপরীতে

মাঝে মাঝে ভাবি স্রোতের বিপরীতে হেঁটে কি লাভ? কিংবা হাঁটা আদোও উচিত কি? সবাই যখন ছুটছে স্রোতের অনুকুলে। বৃথায় সময় এবং শ্রম ক্ষয় করছি।
কিংবা যে পাত্রে ভালবাসা কিংবা কোন কিছু দেবো সেই পাত্রেরও তো ধারণ ক্ষমতা থাকতে হবে। না হলে সে গুলো উপচে পড়ে যাবে। ধরা যাক, প্রতিদিন আমরা কাপের আধ কাপ চা খেতে খেতে অভ্যস্থ; হটাত করে যদি পুরো কাপ ভরে দেয়া হয়- তাহলে সত্যি বিচ্ছিরি বিদিখিচ্ছিরি লাগে।
তাই ভাবছি- সিধান্ত নিয়েছি- কৃপণ হয়ে যাবো। স্রোতের অনুকূলে হাঁটবো। নিজের সবটুকু দেবো না। পারলেও না; থাকলেও না।
তখন দেখো কেমন লাগে? কেমন লাগে? ………

ছোট বেলায় যা শিখেছি জীবন থেকে যা শিখছি

জীবনে বড় হওয়ার সময় কিছু বিষয়ে মগজ ধোলাই হয়েছিল- যেগুলো জীবনের সাথে ওতপ্রোত ভাবে মিশে আছে। কিন্তু বড় হতে হতে জীবন দিয়ে বুঝতে শিখেছি সেই ধোলাই কৃত জিনিস এই জীবনে বেশ অচল। তার বিপরীতে নতুন করে শিখছি–
ছোট বেলায় যা শিখেছি জীবন থেকে যা শিখছি
…………………………… ………………………………
সদা সত্য কথা বলিয়ো ঃ সবখানে সত্য কথা বলতে নেই
অন্যায়ের কাছে মাথা নত করো না ঃ সবখানে মাথা তুলতে নেই
মানুষ মাত্রই ভুল করে ঃ কর্তা দের কোন ভুল হয় না
বক্স এর বাইরে ভাবতে শেখো ঃ বক্স এর ভিতরেই থাকো
ভুল প্রশ্ন হলেও প্রশ্ন করো ঃ সবার কাছে প্রশ্ন করতে নেই
যুক্তি দিয়ে ভাবতে শেখো ঃ ভেবো না- করে যাও
জ্ঞান অন্বেষণ করো ঃ সব কিছু জানতে চেয়ো না