পোড়া চোখ

চোখ পুড়িয়েছি অনেক আগেই রুপের আগুনে
জ্বলছে আগুন- নিভাতে চাই এই ফাগুনে।

ঝড়ের পাখি
০১-০১-১৫

তুমি নেই ভাবতে

তুমি নেই ভাবতে-
অশ্রু নদীর বাঁধ ভাঙে;
তুমি নেই ভাবতে-
রাত জাগা পাখি হঠাৎকরে ডাকে।
তুমি নেই ভাবতে –
ধোয়াটে আকাশটা হঠাৎ করে রাঙে নীলে,
তুমি নেই ভাবতে-
সাগরের গর্জন থেকে থেকে ওঠে দীলে।
তুমি নেই ভাবতে-
কষ্টে ঝরণা অঝর ধারে ঝরে।
তুমি নেই ভাবতে-
আমার এই অন্তর কেঁদে কেঁদে শুধু মরে।

তুমি নেই তাই-
হাহাকার শুধু ওঠে দখিনা বাতাসে।
তুমি নেই তাই-
আজ নেই চাঁদ আকাশে।
তুমি নেই তাই-
বাগানের সব ফুল ঝরছে অনাদরে,
তুমি নেই তাই-
সুখের পাখিটা চলে গেছে খাঁচা ছেড়ে।
তুমি নেই তাই-
মরুভূমি মরীচিকা ধূ-ধূ প্রান্তর,
উষ্ণ হৃদয়ে সাদাটে বালি।
তুমি নেই তাই-
লেখার খাতা, বইয়ের পাতা
ঝাপসা ছিটানো কালি।
তুমি নেই তাই-
সাজানো বাসর- পাষাণ পাথর,
কষ্ট ঝরে হয়ে কান্না।
তুমি নেই তাই-
কঙ্কর হয়ে গেছে
হীরা, চুনি, পান্না।

ঝড়ের পাখি
২২-০৭-০৩

তুমি

তুমি ঠিক শীতের সকালের মিষ্টি রোদ
বেশী সময় যায়না সওয়া- পুড়িয়ে দাও
সরে আসলে মনে পোড়ে, আবার টেনে নাও।

ঝড়ের পাখি
০২-০১-১৫

ভালবাসা মানে

ভালবাসা মানে তোমার আশায় বসে থাকা,
লাভ নেই জেনোও লাভেবল হওয়া-
বৃথা তোমায় ভেবে রোমাঞ্চিত হওয়া।
ভালবাসা মানে ভালবেসে যাওয়া
না পাঠানো চিঠি, না শোনানো গান;
জমিয়ে রাখা কথার ঝুড়ি।
একলা সাজানো প্ল্যান।

ভালবাসা মানে নিজেকে গল্পের নায়ক ভাবা
ভালবাসা মানে কবি হয়ে ওঠা
ভালবাসা মানে নিজেকেই ভালবাসা।

ঝড়ের পাখি
০২-০১-১৫

শুভ সকাল

ঘুম ভেঙে তোমাকে পাবার আশায় মুখ বইয়ে খোঁজাখুঁজি,
আলতো আলোয় তোমার নরম বুকে স্বপনে মুখ গুজি।
তুমি নেই তবু তোমাকে নিয়ে ন্যাকামি,
আগের মতোই আজও এই একামি।
তোমাকে নিয়ে আমার সেকাল, একাল, আকাল
ভাল থেকো, ভালবাসি- শুভ সকাল।

ঝড়ের পাখি
০৩-০১-১৫

না


ওখানে
যেয়ো না তুমি
ওদিকে
যেয়ো না।
এটা করো
না তুমি,
ওটা করো
না।
একথা বোল
না তুমি,
ওকথা তো
কক্ষনোই নয়।
ওর সাথে
মিশো না তুমি
এর সাথেও
না।
এটা খেয়ো
না তুমি
ওটাও
খেয়ো না।
এ বই পড়ো
না তুমি
ও বইও
না।
প্রতিদিন এরকম হাজারো না শুনতে শুনতে বড়
হচ্ছে। ৩০ শে পদার্পণ করেও আজও আমি শুনি। এই সব না শুনতে শুনতে শুরু করেছি আমিও না
বলা। না, না, না।
আমাদের বাচ্চাগুলো কী শিখবে? না, না,  না!!! নাকি, না কে না বলে করবে মনে চায় যা। একসময়
সত্যি কারের না গুলকেও না বলে করে ফেলবে কোন না।
ঝড়ের পাখি
৩১-১২-১৪

উষ্ণতা

বন্ধু চলো আগুন বেঁচি, শিশির ভেজা জল;
সেই জলেতে দুঃখ আমার করছে টলমল।
হাত বাড়ালেই হাত মেলাবো, পা বাড়ালেই পাপ!
শরীরে মিললেই পাবে তাপ- হবে অনুতাপ।

বিচ্ছিরি এক বদখিচ্ছিরি, হতচ্ছাড়া আমি-
তোমার ছোঁয়ায় দেখো- হবো ভীষণ দামী!
রাখবো তোমায় বুকে ধরে কালন্তরে দিবাযামী,
শীতে দেবো উষ্ণতা আর ভালবাসার হামি।

ঝড়ের পাখি
০৩-১২-২০১৪
অক্ট্রয় মোড়, রাজশাহী।

looking for উষ্ণতা.

নারীবাদী

নয়নের জলে তোমার ছবি আঁকবো নয়নাভিরাম,
বনবাসী সীতা তুমি- আমি স্বার্থপর রাম।

রাবন থেকে বাঁচিয়ে তোমায় আগুনে ফের পোড়াব;
তোমায় পেয়ে ইচ্ছা করে আবার স্বেচ্ছা হারাবো।

রাবনের না হতে দেবো- আমার রানী না বানাবো-
ইচ্ছে মতন ভাঙবো তোমায়- রাগ অভিমান ভুলাবো।

ঝড়ের পাখি
২১-১২-১৪

জুটি

ভালবাসার ইঁদুর দৌঁড়ে তুমি হবে জুটি,
আমি টম- তুমি জেরী; করবো ছুটাছুটি।
ইচ্ছে মতন লাগবো পিছে- নিত্য খুনসুটি।
তুমি আমার ডোবা জলে- হারিয়ে যাওয়া পুঁটি।


ঝড়ের পাখি
২৯-১১-১৪

ব্যস্ততা

তোমাকে আর ডাকবো না কক্ষনো
করবো না আর বৃথা জ্বালাতন
তোমার মন চাইলেই এসো
না হয় ইচ্ছে ডানায় ভাসো।

আমি বলবো না তোমাকে
বলবো না সে কথা-
হাজার অনুনয়েও
মিছে করবো না যা তা।
আমি হবো ভীষণ হিসেবী,
করবো কারবারি- মোসেহেবী-
আনা-পাইয়ের হিসবা কসে
হবো দূরবাসী।
চাইলেও আর পাবে না সময়
হবে তুমি আমার স্মৃতিময়;
বুঝবে সেদিন- ইচ্ছে হলে
সব কিছু কি আর মেলে?
খুনসুটি গুলো বিঁধবে তোমায়
পাগলামি গুলো বাঁধবে তোমায়
আমার তখন ব্যস্ত সময়
অর্থের আল্পনায়।

 ঝড়ের পাখি
২৯-১১-১৪
অক্ট্রয় মোড়, রাজশাহী।