অভিনয়

অভিনয় জীবনে জবানে…
সেলুলয়েড, ভার্চুয়াল, রিয়েলে…
নিত্য সেথা হচ্ছে বদল
চরিত্র আর ডায়ালগ-
মিছে কেন দর্শক একা?
একলা একা বসে থাকা।
নামবো আমি নাম ভূমিকায়
করবো সেথা নিত্য অভিনয়
আমিই সেথা খল কিংবা জোকার
ক্ষতি কি আমার নেইকো আকার।

মিথ্যে ভালবাসা

বন্ধু আমার এক চোখে জল অন্য চোখে হাসি,
মিথ্যে করে হলেও বন্ধু তোমায়- সত্যি ভালবাসি।

ছুটির দিন

জানো,
কাল শনিবার ছিল- ছুটির দিন।
ছুটির দিনে আমি বেশ অলস হয়ে যাই-
সারাদিন সারাক্ষণ তোমাকেই পাশে চাই।
কিন্তু,
ছুটির দিন গুলোতে শুরু হয় তোমার কর্মযজ্ঞ;
আমিও নেমে পড়ি তোমার সাথে হাত মেলাতে-
তোমার কর্মযজ্ঞ তাড়াতাড়ি শেষ হলে যেন তোমায় পাই।
শেষ হতে হতে দুপুর গড়িয়ে বিকেল-
হয় না আমার আর অলস হওয়া-
হয় না আর তোমাকে পাওয়া-
হয়তো বা,
আগামী শনিবারে সেই একই ইচ্ছা।
তবু আমি থাকবো না- সম্ভাব্য ব্যস্ততায়;
দিন শেষে রাত আসে-
বিছানায় শুয়ে পাশে
ছোঁয়া আর গন্ধে
মন ভরে না, ভরে না।
চাই শনিবার ছুটির দিন
অলস আমি- তোমাকেই পাশে।
ঝড়ের পাখি
১১-০১-২০১৫

ভালবাসতে চাই

অল্প আলোয়
আলতো করে
অল্প করে মাখবো
হাত ইশারায়
চোখের ভাষায়
মিষ্টি করে মাখবো
রাতের মাঝে
দিনের কাজে
তোমাকে পাশে চাই
ভাল বাসি
ভালবেসে
ভালবাসতে চাই

ভালবাসা দিবসে

আজ বিশ্ব ভালবাসা দিবস!
কিন্তু, ভালবাসার মোর নেই অবকাশ।
আমারও তো ইচ্ছে হয়
একটা আধফোটা গোলাপ নিয়ে 
কোন মর্ত্যের অপ্সরীকে বলি-
থেকো আমার জন্ম- জন্মান্তরের………
কিন্তু, এই বলারও নেই মোর অধিকার।
কি আজন্ম পাপ, ফাটা কপাল নিয়ে জন্মেছি।
আজ যে দিকেই দেখি সেদিকেই শুধু প্রেম-
প্রকৃতিতে প্রেম, পশু-পাখিতে, তরু- লতাতে প্রেম;
চারিদিকে প্রেমের সিন্ধু, কামনার ফোয়ারা-
রুক্ষ- শুষ্ক পৃথিবীতে স্বর্গের মোহনীয়তা।
কারণ, এসেছে বসন্ত, অনন্ত অসীম অপার
সৌন্দর্যের প্রদর্শনী।
কিন্তু, আমার হৃদয়পটে আজ সাহারার বালুভূমি-
নেই কোন কমনীয়তা, মাধুর্যময়ীতা, স্নিগ্ধতা,
শুধু রুক্ষতা, শুষ্কতা, ধ্বংসের উন্মাদনা।
কিন্তু, কেউ কি জানে এই ধূ-ধূ বালুর প্রান্তরে
কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয় -মরূদ্যান,
পাথরের কঠিন বক্ষ বিদীর্ণ হয়ে নির্গত হয়
শীতল ঝর্ণাধারা। আগ্নেয়গিরির প্রবল বেগে
উত্থিপ্ত লাভার সাথে উঠে আসে মনি- মানিক্য, হীরা।
তেমনি আমার দৃপ্ত-পাষাণ পুরুষ হৃদয়ে
কখনও কখনও জাগে প্রবল মাদকতা;
ইচ্ছে হয় ফুলের সুবাস নিতে।
ভালবাসতে ইচ্ছে হয় কোন নারীকে;
যাকে ঘিরে- যার চরণে বার বার আছড়ে
পড়বে আমার স্বপ্ন, সকল সাধনা।
যে আমার চোখের বারি বিন্দুকে মুছে দিয়ে বলবে-
এগিয়ে চলো সামনে; তোমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে।
যখন ক্লান্ত হয়ে পড়বে তখন আমি তোমাকে
দেব প্রাণ-প্রদায়ী ভালবাসা- উজাড় করে।
যার বুকের মাঝে থাকবে অফুরন্ত স্বর্গীয় সুগন্ধ;
আমি মৃগ শাবকের ন্যায় তার
চতুর্দিকে করবো ছুটাছুটি।
কিন্তু, সে তো আমার ভিখারীর স্বপ্ন
তা কি পূরণ হওয়ার যোগ্য?
আছে শুধু হতাশা, দুঃস্বপ্ন, দুরাশা।
তাই আজ বলতে হয় রবি ঠাকুরের মত-
মিনতি তোদের জানাই আবার
ভালবাসিবার মোর দে রে অধিকার।
ঝড়ের পাখি
১৪-০২-২০১৪

একুশ মানে

একুশ মানে রক্ত রাঙা
গোলাপ ফুলের হাসি,
একুশ মানে সোনার স্বদেশ
হৃদয় দিয়ে ভালবাসি।।
একুশ মানে বায়ান্নতে
বীর শহীদের রক্ত।
একুশ মানে চৌদ্দ কোটি
বাংলা ভাষার ভক্ত ।।
একুশ মানে শহীদ মিনার
বরকতেরই হাসি।
একুশ মানে লক্ষ মায়ের
অশ্রু রাশি-রাশি;
একুশ মানে গাঁয়ের চাষি-
হাসি ভরা মুখ,
একুশ মানে সোনালী ধান,
ভালবাসায় বুক।
একুশ মানে ছালাম ভায়ের
লাল টকটকে খুন,
একুশ মানে পাগলীনি-
ভাইহারা এক বোন।।
একুশ মানে রক্তজবা,
হাস্নাহেনা ফুল,
একুশ মানে বাংলা ভাষা,
ভাঙল শত ভুল।।
একুশ মানে শফিউর জনক
গর্বে ভরা বুক।
একুশ মানে বিশ্ব ব্যাপী
উজ্জ্বল বাংলা মায়ের মুখ।
ঝড়ের পাখি
২০-০২-২০০১

সংস্কার

তুমি আমার দূর্বা ঘাস
পূজার বেল পাতা
কিংবা তুমি আমের মুকুল
না কুড়ানো জবা।
কিংবা তুমি মলন খুঁটি,
ছিকেয় রাখা আচার;
আঁকড়ে রাখা সংস্কারের ঝুঁটি-
ছাড় না দেয়া হাজারো বাছ-বিচার।

বন্ধুর লাগি

যেদিন বন্ধু চলে যাবো–
রেখে যাবো স্মৃতি কিছু পিছু;
যেদিন আমি হারিয়ে যাবো–
দূর অজানার ঠিকনাতে-
কোথাও খুঁজে পাবে না’তো তুমি,
খুঁজবে তুমি আমাকে যে–
দুষ্ট চোখে থাকবে চেয়ে,
আমার এই পথ পানেতে।
খুঁজবে তুমি আমায় প্রিয়
তোমারই ঐ মনের মাঝে
পিছু স্মৃতি দেবে ব্যাথা তোমাকে।
ভুলতে যাবে তুমি মোরে
কাদবে তুমি অশ্রুহারা কঠিন আঁখিতে-
নিশিত রাতে স্বপ্ন দেখে
জাগবে হটাৎ চমকে!
আমার স্মৃতি পড়বে মনে
উঠবে ও বুক ছমকে।
কন্ঠ ছিড়ে আসবে তখন কান্না।।
ঝড়ের পাখি
১৮-১২-০০

বৃথা আস্ফালন

আমার দ্বারা কিচ্ছু হবে না
গিজ গিজ করে মাথায় পোকা-
কুরে কুরে খায়-
আমি ভীষণ অসহায়।
আমি ভীষণ অস্থির
দানা বাঁধে অনিশ্চয়তার তীর।
হুট হাট – ঘুট ঘাট
করে ফেলি লুটপাট।
ছন্নছাড়া, হতচ্ছাড়া
পাগলাটে এক রগচটা-
ইচ্ছে করে দেই হাটা
অজানাতে বাড়িয়ে পা’ টা-
আমাকেই চিনছি নিত্য নতুন
তোমায় চেনা বৃথা আস্ফালন।
ঝড়ের পাখি
১৫-০৪-১৫

হার- জিত

ভাবছো আমি হেরেই গেছি;
জিতেই গেছো তুমি!
ক্যামনে তুমি পার পাবে হায়
করে আমায় অসহায়।