অপেক্ষা

তুমি আসবে কবে? বলে দিলেই পারো।
হুদা, হুদাই, কেন অপেক্ষাতে রাখো?
জানোই তো- অপেক্ষাকে ভীষণ ভয় পাই,
আস্তে আস্তে রাগতে শুরু করি।

বন্ধু তোমার হাতে ধরি, পায়ে পড়ি-
লক্ষ্মীটি আসো তাড়াতাড়ি।
রাত যে হল গভীর কালো;
নিভেছে শহরের সব আলো।
আমি শুধু তোমার প্রতীক্ষায়;
আর কতক্ষণ রইবো অপেক্ষায়?

ঝড়ের পাখি
২৯-১১-১৪
অক্ট্রয় মোড়, রাজশাহী।

ক্ষুদ্র

যতটা আঘাতে সবকিছু ভেঙে পড়ে
ততটা আঘাতেও দাঁড়িয়ে আছি–
পলকহীন শুষ্ক চোখে-
যতটা অবহেলায় ঘাস মরে যায়-
অবহেলায় প্রাণ ফিরে পেয়েছি;
ভালবাসতে শিখেছি আবারো উদ্দীপনায়।

তোমারে চোখে আজও আমি অদৃশ্যমান অণুজীব;
তোমার মনের যন্ত্রে যা ধরা পড়ে না;
জানোই সকল প্রাণের শুরুই সেই থেকে।
তবুও তুমি ব্যস্ত সংকটাপন্ন নীল তিমি
আরা শ্বেত হাতী নিয়ে।
আমি মরবো- আবার জন্মাবো তোমায় ভালবেসে।

ঝড়ের পাখি
২৮-১১-১৪
নৃবিজ্ঞান বিভাগ, রা বি।

বিমূর্ত ভালবাসা

তুমি তেমনই আছো-
যেমনটি দেখেছিলাম কোন এক মেঠো পথে।
তেমনই আছো; একরাশ মুগ্ধতা আমার চোখে।
নাকি আমিই বদলায় নি?
আছি সেই চোদ্দ বছরের প্রেমিক-কিশোর।

তাইতো আজো প্রেমে পড়ি-
পড়ে হৃদয়টা আবারো গেছে ছিরে-ছুলে।
অয়েন্টমেন্ট হবে না জানি সে ক্ষতের!
সময় কোথায়? কিংবা হারিয়েই গেছো ……
ভাত-রুটি আর সংসারী অভিনয়ের ব্যস্ততায়।
আমিও সবকিছুর সাথেও নস্টালজিক
তোমার প্রেমে…
আমি এক আপেক্ষিক, বিমূর্ত, অস্তিত্বহীন প্রেমিক।

ঝড়ের পাখি
২৮-১১-১৪
ক্যাম্পাস, রাবি।

চাওয়া

তোমাকে পাই না বহুদিন!
না দর্শন! দীর্ঘ …… পেয়েছি স্বর!
তারপর অখণ্ড অবসর………।
তুমি আছো তোমার রাজা আর রাজত্ব নিয়ে…
আমি নগণ্য প্রজা তোমার-
থাকি কুড়ে ঘরে।
চালার ফাকায় জোছনা ঝড়ে!

স্পর্শ চাইনা! দর্শনও না! স্বরও না!
তবুও চাই তোমায়-
জানি না ক্যমনে?

ঝড়ের পাখি
২৮-১১-১৪
ক্যাম্পাস, রা বি।

ভালবাসা ফেসবুকে

বার বার ঘুরে আসি চ্যাট বক্সে-
দেখি তোমার নামের পাশে সবুজ বাতি জ্বলছে কি না?
না পেয়ে ফিরে আসি-
এত সবুজ বাতির ভিড়ে- তোমার টাই শুধু ফিকে!
আমিও যে আগ্রহ নিয়ে যাই-
ঠিক তেমনই নিষ্প্রভ হয়ে যাই
পাংশু বর্ণ ধারণ করে মুখটা।
এটাও কি ভালবাসা।

তোমার একটি ছবি, লাইক, কমেন্ট- পোষ্ট!
যেন পূজার প্রসাদ- খাই চেটে-পুটে!
তোমাকে চাই একটিভ ফেসবুকে!!
সারা দিন করো মোরে পোক;
আমাকে ভাল রাখো, তোমার ভাল হোক।

 ঝড়ের পাখি
২৭-১১-১৪
নাচোল, চাঁপাই নাবাবগঞ্জ।

সংসারী

তোমার সাথে রাত-ঘুম
ভালবাসি ভাত ঘুম;
কবিতা তোমায় দিলাম ছুটি-
বউয়ের সাথে বানাবো রুটি।

চাঁদ দেখে মুগ্ধ হওয়ার আগে
যায় চলে যায়- খুনসুটি অনুরাগে।
আর শুনি না মধুর কোন গান-
করছি শুধুই ঘ্যান-ঘ্যান!
বৃথায় কেন অশ্রু তোমার চোখে?
আর থাকি না উদাস-উদাস মুখে।
তোমার হাতে খুন্তি কড়াই- আমার হাতে ব্যাগ;
দু’জন মোরা দু’জনাতে করেছি সব ত্যাগ।
তোমার মুখের হাঁসির লাগি
দুঃখ আমার লুকিয়ে রাখি;
মিথ্যা আমি হাজার বলি
দিচ্ছি কত জোড়া- তালি।

ঝড়ের পাখি
২৭-১১-১৪
নাচোল, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

না বলা ভালবাসা

নয়নে বেঁধেছি, কত যে সেধেছি,
পিছে মিছে ঘুরে মরেছি।
সময় যেতো থমকে- ভাললাগার দমকে!
রুপের মায়ায় চমকে।

দৃষ্টি যায় আটকে- আমি যাই লটকে!
জানানো হল না- যাই ভড়কে।
স্মৃতির ফিল্মে- আছো তুমি দিলমে
বেঁচে নেই- কিলড মে!
এখনো হাসো- পাশাপাশি বসো,
সেজে গুজে আসো।
পাশে কেউ অন্য, আমি শুধু শূন্য,
হয়ে গেছি পণ্য।
ভাল বাসা আছে, ভালবাসা আছে!
তুমি নেই কাছে।
মুগ্ধতা হারিয়ে- হাত দুটো ছড়িয়ে
আমি আছি দাঁড়িয়ে।

ঝড়ের পাখি
২৬/১১/১৪
নাচোল, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

তা

তোমার চিবুকে চিবুকে চপলতা,
চোখের চাহনিতে চঞ্চলতা,
ঠোঁটের হাঁসিতে মায়াময়তা,
ইশারায় আছে মুগ্ধতা,
চুলের ছায়ায় নিবিড়তা,
শরীরের ভাঁজে মাদকতা।
প্রেমিকা নও! তবে বল কি তা?


ঝড়ের পাখি
২৬/১১/১৪
রাজশাহী

পুনর্জন্ম

প্রেমানলে পুড়ছি আমি
পুড়বো কত কাল না জানি?
হচ্ছে দেখো কানাকানি,
মনের ভেতর টানাটানি।

আমার চোখে তোমার স্মৃতি,
জ্বলছে দেখো ধিকি ধিকি-
কাল না ভেবেই আজকে আমি
ভাবছি রাজা! তুমিই রানী!
ক্যমনে কবো মনের কথা?
পাই না খুঁজে পথ-দিশা।
ভয় করি না- না পাই পাবো
প্রেম বিরহে মজনু হবো।
তবু আমি হবোই হবো-
প্রেমানলে অঙ্গার হবো,
পুড়বো তবু হবো না ছাই
লক্ষ্য আগুন জ্বালাতে চাই।
তোমার প্রেমে মরণ হবে
লাখো প্রেমিক জন্ম নেবে।
পুড়বে আবার প্রেমানলে-
তাদের প্রেমেও উঠবো জ্বলে।

ঝড়ের পাখি
২৪/১১/২০১৪
নৃবিজ্ঞান বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী।

প্রফেশন

কথা বেঁচে খাই যে আমি
কথা আমার কাছে দামি
কথা বেঁচে পেট চলে যায়
যাচ্ছে এ দিন (কথা) কেনা- বেচায়।

ঝড়ের পাখি
২৩-১১-১৪