অবিশ্বাসই কর

বিশবাস না হয় নাই করলে-
অবিশ্বাসই কর !
তোমারই ঐ অবিশ্বাসটুকুই পুঁজি করে
শুরু হবে আমার পথ চলা-
ভালবাসার এ সীমাহীন পথে।

ভাল না হয় নাই বাসলে-
ক্ষতি কী? ঘৃণা অন্তত কর!
ঘৃণাগুলোকে সঞ্চয় করে নেব-
আমার হৃদয় সিঁন্দুকে।
কেননা, আমি নিঃস্ব হতে চাই না।

তোমার মাদকীয় অধর
আমার কপোল নাই বা ছুঁল!
তোমার কোমল হাতের স্পর্শ (এ)
আমার গাল তো রক্তিম হবে!
সেই স্মৃতি না হয় সঙ্গী হবে-
নিদ্রহিীন রাত্রিযাপনের।

ঝড়ের পাখি
(২০০৬ সালের কোন এক সময়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়)

শরীফাকে

একটা মেয়ে সে; যাকে দেখলে কেমন করে-

প্রেমিকা নয়, প্রেম জাগায় সে অন্যেরই অন্তরে।

অদ্ভুত সে, অদ্ভুত তার অদ্ভূতময় সব।

উচ্ছলতায় উদ্যমতায় জমিয়ে দেয় ভাব।

অন্ধ সে নয়নের আলোয় নিজেকে দেখে না,

অন্যের চোখে নিজেকে দেখার লোভ সে করে
না।

তারপরেও হঠাৎ করে অন্যের চোখে চোখ পড়ে,

মর্ত্যের এই পঙ্কিলতায় স্বর্গটা
এসে ধরা পড়ে।

কত করে বলি- বারে বারে বলি
স্বর্গটাকে কী যায় ধরা?

ঘুম থেকে উঠে- স্বপ্ন ভেঙে বুঝল
তার ভুল করা।

সংগ্রামী সে, সংগ্রাম তার রক্তের
মাঝে আছে মিশে-

দুঃখ- হতাশা মুহূর্তেই সে যায়
দলে; দেয় পিষে।

তার মুখেরই অগ্নিবানী, তার নয়নের দৃঢ়তায়-

জীবনটাকে ধরতে বাজি; যুদ্ধে এ মন
নামতে চায়।

                -ঝড়ের
পাখি

                ২৭-০২-২০০৭
  

অজান্তে

সুখের লাগিয়া, দুখকে ঠেলিয়া
চলে যাই অজান্তে নিজেকে ফেলিয়া,
নিজেকে জানতে- নিজেকে ভুলে
হারিয়ে যাই সীমাহীন মোহনার কুলে।
আকাশকে বাসিয়া ভাল- নিজেকে উদার করে;
স্বর্গকে খুঁজতে যাই মর্তের পরে।
অন্যনতায় অন্যকে হয়তোবা ভাল লাগে।
যা ছিল মন্দ, পঙ্কিল, জীর্ণ আগে।

সূর্য ওঠে- অস্তও হয়তো বা যায় !
ফুলটাও কাঁদিয়া ঝরিয়াও যায়।
অনেক কষ্ট থাকে মেঘের বুকে,
তাই বুঝি এই নদী বহে আমারই দুচোখে।

চাঁদটাতো সুন্দর, জোছনাও সুন্দর,
কান্নাটা লুকিয়ে রাখে মোর অন্তর।
                        – ঝড়ের পাখি
                         

জন্মদিন, শুভ হোক!


Today birthday, happy to you.
হইও সুখী কামনাও এই।
হইও তুমি অনেক বড়,
বিশ্বটাকে জয় করো।
তোমারই ঐ সুনামে-
পঞ্চমুখ হোক গানে গানে।
জন্মদিন শুভ হোক!
সুখী হইও তুমি।
তোমার নামে ধন্য হোক-
এই বিশ্ব ধরা ভূমি।
অরুণ–তরুণ, ফুল- ফসলে
জীবন গড়ো নদীর জলে।
মুক্তা তুমি রেখে লুকিয়ে
সাগর – অতল ঝিনুক তলে।
জন্মদিন শুভ হোক!
সুখী হইও তুমি।
তোমার নামে ধন্য হোক-
এই বিশ্ব ধরা ভূমি।
স্বাগতম, শুভেচ্ছা
জানাই মোরা স’বি,
আশীর্বাদও করি তোমায়
হইও লাইক রবি।
জন্মদিন শুভ হোক!
সুখী হইও তুমি।
তোমার নামে ধন্য হোক-
এই বিশ্ব ধরা ভূমি।
           -ঝড়ের পাখি
 

শক্তি এবং সংস্কৃতির বিবর্তন

লেসলি এ. হোয়াইটের তত্ত্ব অবলম্বনে

(লেখাটি আমার এক স্যারের নির্দেশে লেখা। স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞ অনেক ঝামেলার মধ্যেও লেখাটি আদায় করে নেওয়ার জন্য।)

সংস্কৃতির কাজ হচ্ছে মানুষের চাহিদার (needs) যোগান (serve) দেওয়া। আর এই চাহিদা দুই ধরনের। যথা-

• কিছু চাহিদা (needs) আছে যেগুলো মানুষ তার নিজস্ব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ (organism) দিয়ে চাহিদাকে মেটাতে বা পরিপূর্ণ করতে সক্ষম। এগুলো হচ্ছে, গান গাওয়া, নাচা, মিথ বা গল্প তৈরি করা, ক্লাব বা সংগঠন তৈরির মাধ্যমে একত্রে বসবাস করা ইত্যাদি হচ্ছে এই ধরনের চাহিদা।

• দ্বিতীয় ধরনের চাহিদা পূরণের জন্য মানুষ তার বাইরের (পৃথিবীর) জগতের সম্পদগুলোর উপর নির্ভরশীল এবং এই চাহিদাগুলো মানুষ তার নিজস্ব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ (organism) দিয়ে মেটাতে পারে না। যেমন- মানুষ তার খাদ্য চাহিদা পূরণের জন্য বাইরের পৃথিবীর উপর নির্ভর করে। হাতিয়ার (tools), অস্ত্র (weapons) এবং অন্যান্য বস্তুর সাহায্যে মানুষ নিজের জন্য প্রাকৃতিক উপাদান থেকে খাদ্য, আশ্রয় (shelter) সংগ্রহ করে, শত্রু থেকে নিরাপত্তা অর্জন করে। এরকম আরও অনেক চাহিদা পূরণ হয় বহির্জগত (External world) থেকে।

ঐশ্বরিক (spiritual) এবং নান্দনিক/সৌন্দর্যসংক্রান্ত (esthetic) চাহিদা যেমন- গান গাওয়া, নাচ করা, মিথ তৈরি প্রভৃতির মাধ্যমে তখনই পরিতৃপ্তি অর্জন সম্ভব যখন মানুষের খাদ্য, বাসস্থান এবং নিরাপত্তা পরিপূর্ণভাবে অর্জিত হবে। এভাবে সমগ্র সংস্কৃতি জগত বস্তুজগতের (material world), যন্ত্র/প্রযুক্তিগত (mechanical) উপকরণের উপর নির্ভরশীল। এগুলোর মাধ্যমে মানুষ নিজেকে পৃথিবীর সাথে একত্রে বেঁধে রাখে।

অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, মানুষের সেসমস্ত চাহিদা আর অভ্যন্তরীণ সম্পদ (inner resources/নিজস্ব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ) দিয়ে পরিপূর্ণ করে যেগুলো স্থির (constant) হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু, বহির্জগতের সম্পদ (outer resources) বৈচিত্র্যপূর্ণ মনে করা হয়। যে কারণে সংস্কৃতির উন্নয়ন আলোচনায় আমরা স্থির (inner resources) প্রত্যয়গুলোকে বাদ দিতে পারি এবং শুধুমাত্র বৈচিত্র্যময় (variable) প্রপঞ্চ নিয়ে আলোচনা করতে পারি। এই বৈচিত্র্যময় (variable) সম্পদগুলো হচ্ছে- বস্তুগত (material) এবং প্রযুক্তিগত উপকরণ (mechanical means); যার মাধ্যমে মানুষ প্রাকৃতিক সম্পদকে ব্যবহার করে, কাজে লাগায় এবং শোষণ করে।

মানুষ যে প্রক্রিয়ায় পৃথিবীর সাথে যুক্ত; সেটিকে বিশ্লেষণ এবং সমাধান করা সম্ভব ৫টি বিষয়ের (factor) সাহায্যে। যথা-

• মানুষের শারীরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ (the human organism)

• আবাসস্থল বা বাসস্থান (the habitat) বা স্থানিক প্রতিবেশ

• মানুষের নিয়ন্ত্রিত এবং ব্যয়িত শক্তির পরিমাণ (the amount of energy controlled and expended by man)

• শক্তি ব্যবহারের উপকরণ ও পদ্ধতিসমূহ (the ways and means in which energy is expended) এবং

• মানুষের চাহিদা পূরণক্ষম পণ্য/বস্তু; যা শক্তি খরচ করে উৎপাদন করা হয় (the human –need-serving product which accrues from the expenditure of energy).

সুতরাং বলা যায় যে, মনুষ্য প্রজাতির মতো অন্যান্য সকল প্রজাতি তাদের আবাসস্থলের সম্পদ তাদের চাহিদা ও উদ্দেশ্যের উপর নির্ভর করে এক বা একাধিক উপায়ে মিটিয়ে থাকে। উপরের পাঁচটি বিষয়ের ক্ষেত্রে আমরা মনে করতে পারি যে, প্রথম বিষয়টি (organic factor) স্থির ও অপরিবর্তনীয়। যদিও মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্য এবং কর্মক্ষমতা ভিন্ন ভিন্ন। কিন্তু, আমরা সেজন্য সংস্কৃতির ভিন্নতার জন্য মানসিক বা শারীরিক ভিন্নতাকে দায়ী করতে পারি না। এই আলোচনায় নর-গোষ্ঠীকে (Human-race) আমরা একটি বিশ্বজনীন এককে বিবেচনা করে নিই অথবা স্থির কিংবা আলোচনা থেকে বাদও দিতে পারি।

দুটি বাসস্থান যেমন কখনো একই রকম নয়; তেমনি সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে আবাসস্থলও ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। যদিও সময়ের সাথে সাথে আবাসস্থলের ভিন্নতার ধরন খুবই দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া; তবুও এই ভিন্নতা লক্ষণীয়। সংস্কৃতির বিবর্তন অধ্যয়নের ক্ষেত্রে আবাসস্থলের বিষয়টি স্থির হিসেবে ধরে নিতে হবে। আমরা ধরে নিই যে, পৃথিবীর সকল আবাসস্থলের চাহিদা পূরণযোগ্য এবং মানবকল্যাণের জন্য উপযোগী সম্পদের পরিমাণ সমান। (কিন্তু, একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যে, যখন আমরা কোনো একটি নির্দিষ্ট সংস্কৃতির বিবর্তন অধ্যয়ন করব, তখন অবশ্যই সেই সংস্কৃতির নির্দিষ্ট আবাসস্থলকে বিবেচনায় রাখতে হবে।) সুতরাং আমরা যদি আবাসস্থলকে স্থির বিবেচনা করি; তাহলে এই বিষয়টিকেও প্রথমটির মতো (human organism) সংস্কৃতির উন্নয়নের আলোচনার বাইরে রাখতে পারি।

এই বিষয় দুটিকে বাদ দিলে, যেকোনো ধরনের সাংস্কৃতিক অবস্থানে তিনটি বিষয় বিদ্যমান থাকে। এগুলো হচ্ছে-

• একটি নির্দিষ্ট সময়ে মাথাপিছু ব্যবহৃত (harnessed) শক্তির পরিমাণ এবং সেটির মাধ্যমে সংস্কৃতির কাজে লাগানো, (the amount of energy per capita per unit of time harnessed and put to work within the culture)

• প্রযুক্তিগত উপকরণ; যার মাধ্যমে শক্তি ব্যয়িত হয় (the technological means with which this energy is expended).

• মানুষের চাহিদা পূরণক্ষম পণ্য/বস্তু; যা শক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন করা হয় (the human-need-serving product that accrues from the expenditure of energy).

আমরা এই তিনটি বিষয়ের মধ্যকার সম্পর্ককে একটি সূত্রের সাহায্যে দেখতে পারি-

E × T= P [শক্তি × উপকরণ=সংস্কৃতি]

এখানে, ‘E’ দ্বারা একটি নির্দিষ্ট সময়ে মাথাপিছু ব্যবহৃত শক্তির পরিমাণকে নির্দেশ করা হয়। ‘T’ প্রযুক্তিগত উপকরণকে প্রতিনিধিত্ব করে এবং ‘P’ একটি নির্দিষ্ট সময়ে প্রযুক্তির সাহায্যে শক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদিত কোনো পণ্য/বস্তুকে প্রতিনিধিত্ব করে।

বিষয়টিকে বোঝানোর জন্য একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। যেমন: একজন মানুষ একটি কুঠার/কুড়ালের (axe) সাহায্যে কাঠ কাটছে। ধরে নিই যে, কাঠের গুণগত বৈশিষ্ট্য এবং মানুষের কাজের দক্ষতা একই রকম এবং স্থির। মনে করি নির্দিষ্ট সময় হচ্ছে, এক ঘণ্টা। এখন এক ঘণ্টায় কতটুকু কাঠ কাটা হবে সেটি দুটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে।

প্রথমত, মানুষ বা শ্রমিক ঐ এক ঘণ্টায় কত পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করছে তার উপর, যত বেশি শক্তি ব্যবহার করবে তত বেশি কাঠ কাটা সম্ভব হবে।

দ্বিতীয়ত, এক ঘণ্টায় কাঠ কাটার পরিমাণ নির্ভর করবে কী ধরনের কুঠার/কুড়াল ব্যবহার করা হচ্ছে তার উপর। অর্থাৎ, অন্যান্য বিষয় একই রকম থাকলে নির্দিষ্ট সময়ে কাঠ কাটার পরিমাণ নির্ভর করবে কুঠার/কুড়ালের গুণগত বৈশিষ্ট্যের ওপর। যত ভালো কুঠার/কুড়াল ব্যবহার করা হবে; তত বেশি কাঠ কাটা সম্ভব হবে। আদিম যুগের একটি পাথরের কুড়ালের চেয়ে বর্তমান সময়ের লোহা কিংবা স্টিলের কুড়াল/কুঠার দিয়ে বেশি পরিমাণ কাঠ কাটা যাবে।

কোনো একটি কাজের কার্যক্ষমতা যা মানুষের শক্তির মাধ্যমে করা হয় তা কৌশলগতভাবে নির্ভর করে কাজের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তির শারীরিক/দৈহিক দক্ষতা এবং ব্যবহৃত হাতিয়ারের বৈশিষ্ট্যের ওপর। এই আলোচনায় আমরা দৈহিক ক্ষমতা/দক্ষতাকে সমান হিসেবে বিবেচনা করবো।

হাতিয়ার বা উপকরণের মাধ্যমে মানুষ তার শক্তি ব্যবহারের ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করতে পারে। এটি দুটি উপায়ে সম্ভব: উপকরণ, হাতিয়ার বা প্রযুক্তিকে উন্নয়নের মাধ্যমে অথবা নিকৃষ্ট বা নিম্নমানের উপকরণ বা প্রযুক্তির পরিবর্তে শ্রেয়তর বা উচ্চতর উপকরণ বা প্রযুক্তির প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে। কিন্তু, যেকোনো ধরনের প্রযুক্তি বা উপকরণকে উন্নত করার একটি সীমানা রয়েছে। কোনো প্রযুক্তিকে উন্নত করার এই সীমানা অতিক্রম করা সম্ভব নয়। এই সীমানা ১-১০০ শতাংশের মধ্যে বিদ্যমান থাকে। যেমন: একটি কুঠারকে পাথর থেকে লোহা কিংবা স্টিলে উন্নত করা সম্ভব; এর চেয়ে ভালো কোনো ধাতু দ্বারা কুড়ালকে নির্মাণ করা সম্ভব। কিন্তু, তার বেশি উন্নত করা সম্ভব নয়। কিন্তু, এই কুড়ালের পরিবর্তে ভালো কোনো প্রযুক্তি বা উপকরণ তৈরি সম্ভব যার সাহায্যে একই সময়ে একই পরিমাণ মনুষ্য শক্তি ব্যবহার করে অধিক কাঠ কাটা সম্ভব। কুঠারের পরিবর্তে করাত কিংবা বৈদ্যুতিক করাত দিয়ে অনেক বেশি কাঠ কাটা সম্ভব। সুতরাং বলা যায় যে, কোনো প্রযুক্তির উন্নত করার সীমা নির্দিষ্ট। তাই নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কার্যক্ষমতাকে অধিক বৃদ্ধি করা যায়।

সংস্কৃতির উন্নয়নকে একটু সাধারণীকরণ করা যাক। আমরা আমাদের সংস্কৃতি পরিবর্তনের সূত্রটাকে একটু ভিন্নভাবে লিখি-

E × F= P [শক্তি × উপকরণের কার্যক্ষমতা=সংস্কৃতি]

এখানে ‘E’ এবং ‘P’ পূর্বের বিষয়গুলোকে প্রতিনিধিত্ব করে। যথা: E= ব্যবহৃত শক্তির পরিমাণ এবং P= উৎপাদিত পণ্য/বস্তু। কিন্তু, ‘F’ হচ্ছে প্রযুক্তিগত উপকরণের কার্যক্ষমতা; যার দ্বারা শক্তিকে কাজে লাগানো হয় (efficiency of mechanical means)। আমরা জানি যে, সংস্কৃতির কাজই হচ্ছে মানুষের চাহিদা পূরণ করা। এখন আমরা সংস্কৃতির উন্নয়নকে কীভাবে পরিমাপ করবো? এটা সম্ভব বিদ্যমান সংস্কৃতির দ্বারা, ঐ সংস্কৃতি কী ধরনের কার্যক্ষম প্রযুক্তি বা উপকরণ ব্যবহার করছে তার দ্বারা এবং কী ধরনের মনুষ্য চাহিদা পূরণক্ষম পণ্য/বস্তু উৎপাদন করছে তার দ্বারা। সূত্রে ‘P’ একটি নির্দিষ্ট সাংস্কৃতিক অবস্থানে কী পরিমাণ দ্রব্য, বস্তু বা পণ্য উৎপাদন করে তার সামগ্রিকতাকে প্রতিনিধিত্ব করে। এখানে ‘P’ সংস্কৃতির অবস্থাকে (status of culture) প্রতিনিধিত্ব করে। আরও বিস্তারিতভাবে বললে, সংস্কৃতির উন্নয়নের মাত্রাকে (degree of cultural development) প্রতিনিধিত্ব করে। যদি ‘F’ = প্রযুক্তিগত উপকরণের কার্যক্ষমতাকে স্থির হিসেবে বিবেচনা করি। তাহলে ‘P’ = সংস্কৃতির উন্নয়নের মাত্রা, ‘E’ = ব্যবহৃত শক্তির পরিমাণের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হবে। তখন সূত্রটি হবে-

E1 × F → P1

E2 × F → P2

এটি হচ্ছে সংস্কৃতি উন্নয়নের প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। অর্থাৎ যদি অন্যান্য সকল বিষয় সমান থাকে; (যেমন: মানব গোষ্ঠী, আবাসস্থল এবং ব্যবহৃত প্রযুক্তিগত উপকরণ) তাহলে, সংস্কৃতির উন্নয়ন প্রত্যক্ষভাবে একটি বছরে মাথাপিছু ব্যবহৃত শক্তির পরিমাণের উপর নির্ভরশীল।

একইভাবে, নির্দিষ্ট সময়ে মাথাপিছু শক্তি ব্যবহারের পরিমাণকে যদি নির্দিষ্ট/স্থির হিসেবে বিবেচনা করি। তখন ‘P’, ‘F’ এর উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হবে।

E × F1 → P1

E × F2 → P2

এটি সংস্কৃতির উন্নয়নের দ্বিতীয় সূত্র। যদি অন্যান্য সকল বিষয় সমান থাকে। তাহলে সংস্কৃতির উন্নয়নের মাত্রা প্রত্যক্ষভাবে প্রযুক্তিগত উপকরণের কার্যক্ষমতার উপর নির্ভরশীল। এটি অবশ্যম্ভাবী এবং পুরোপুরি সত্য যে, যদি E এবং F স্বতঃস্ফূর্তভাবে একই কিংবা বিপরীত দিকে পরিবর্তিত হয়; তাহলে P ও একই বা বিপরীত দিকে পরিবর্তিত হবে। আর এটিও পুরোপুরি সত্য যে, E এবং F সবসময় বিভিন্ন দিকে বিভিন্ন মাত্রায় পরিবর্তনশীল। যদি E এবং F স্বতঃস্ফূর্তভাবে বৃদ্ধি পায় তাহলে P দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু, যদি শুধুমাত্র যেকোনো একটি E অথবা F বৃদ্ধি পায় এবং অন্যটি স্থির থাকে তাহলে P বৃদ্ধির মাত্রা স্বাভাবিকভাবেই কম হবে।

আবার, E এবং F এর যেকোনো একটি যদি হ্রাস পায় এবং অন্যটি যদি স্থির থাকে তাহলে P এর পরিবর্তনের মাত্রা হ্রাস পাবে। কিন্তু, যদি E এবং F উভয়টি যদি একই সাথে হ্রাস পায়, তাহলে P এর হ্রাসও দ্রুততর হবে।

অন্যদিকে, E বৃদ্ধি পেল কিন্তু F যদি হ্রাস পায় কিংবা যদি বিপরীতটি (vice-versa) ঘটে। তাহলে, P এর বৃদ্ধি ব্যাহত হবে কিংবা অপরিবর্তিত থাকবে। যদি E এবং F মধ্যকার হ্রাস-বৃদ্ধির হার সমান্তরাল বা ভারসাম্য থাকে তাহলে P অপরিবর্তিত থাকবে। কিন্তু, যদি E এর বৃদ্ধির হার F এর হ্রাসের চেয়ে বেশি হয় কিংবা বিপরীত (vice-versa) ক্রম হয় তবু P বৃদ্ধি পাবে। ঠিক একইভাবে E এর হ্রাসের হার যদি F এর বৃদ্ধির চেয়ে বেশি কিংবা বিপরীত হয়ে থাকে তাহলে P এর হ্রাস হবে।

উপরের সাধারণীকৃত সূত্র দুটি হচ্ছে সংস্কৃতির বিবর্তনের সূত্র। সংস্কৃতি তখনই উন্নত হয় যখন মানুষ কর্তৃক ব্যবহৃত বার্ষিক মাথাপিছু শক্তির ব্যবহারের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। উভয়টির স্বতঃস্ফূর্ত বৃদ্ধিতেও সংস্কৃতির উন্নয়নও দ্রুত হয়।

সকল জীবিত প্রজাতিই তাদের জীবন ধারণের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সংগ্রাম করে চলছে। মানব প্রজাতির অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম অনুমান বা বোঝা যায় সংস্কৃতির ধরন দেখে। মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম কখনো শেষ হবার নয়। মানুষ প্রতিনিয়ত উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ, ভালো জীবন-যাপন এবং নিরাপত্তার জন্য নিত্য নতুন কার্যক্রম, আধুনিক থেকে আধুনিকতর যন্ত্র, উপকরণ বা প্রযুক্তি আবিষ্কার করে চলেছে। সংস্কৃতির এই পদ্ধতিতে মানুষ অধিক শক্তিশালী প্রযুক্তি আবিষ্কার এবং ব্যবহারের মাধ্যমে বার্ষিক শক্তি (energy) ব্যবহারের মাত্রাকেও বাড়িয়ে তুলেছে। এভাবে পানি, বাতাস এবং আগুনকে মানুষ তার নিজের কাজে লাগিয়েছে, বন্য পশুকে গৃহপালিত করেছে, বন্য উদ্ভিদকে চাষাবাদ উপযোগী করেছে, বাষ্পীয় ইঞ্জিন তৈরি করেছে। অন্যদিকে নতুন প্রযুক্তির সাথে খাপ-খাওয়ানো এবং প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবহার করার জন্য সংস্কৃতিকেও উন্নত করেছে। এভাবে সংস্কৃতির জন্য নতুন শক্তি তৈরি এবং সংস্কৃতির উন্নয়নের মাধ্যমে শক্তির ব্যবহারের পরিমাণকে বাড়িয়ে তুলেছে। যত সুন্দর এবং কার্যোপযোগী হিসেবে শক্তিকে ব্যবহার করেছে, সংস্কৃতিও তত উন্নত ও অগ্রসর হয়েছে।

উপসংহার

হোয়াইট তার সংস্কৃতির বিবর্তন তত্ত্বে সংস্কৃতিকে গবেষণার একক ধরেন। তিনি প্রযুক্তিগত, সামাজিক এবং মতাদর্শিক এই তিনভাগে সংস্কৃতিকে ভাগ করেন। তিনি প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে সংস্কৃতির উপর পরিবেশের প্রভাবকে গুরুত্ব দেন। তাই তাকে পরিবেশ নির্ধারণবাদীও বলা যায়। তিনি শক্তির ব্যবহারের মাত্রা (level/degree of energy use) কে সংস্কৃতির বিবর্তনের নিয়ামক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। কিন্তু, হোয়াইট পরিবেশের সাথে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর পারস্পরিক সম্পর্কের উপর জোর দেননি বলে অনেক নৃবিজ্ঞানীর অভিমত। তার সাংস্কৃতিক বিবর্তনের কাঠামো এক সত্তাগত এবং এক-রৈখিক।

যে সমস্ত বইগুলোর সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে

Gamst.C.F.S.Norbeck.E (1976.cd.) Ideas of culture Sources and Uses.33. Energy and the evolution of culture, by Leslie A. White. PP.283-309. Holt, Rinehart and Winston. New York.America

Moore, D.J. (1997) Visions of culture. An Introduction to Anthropological Theories and Theorists. Part Four Evolutionary; Adaptationist and materialist Theories, Julian Steward: Cultural Ecology and Multilinear Evolution PP.169-189. Altamira press.

আলম,এস,এম এন (২০০৩,সম্পাদিত), সমাজ,শরীর ও পরিবেশ:নৃবিজ্ঞানের প্রবন্ধাবলী, পৃষ্ঠা নং-১৭৩-১৭৫, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

রহমান, এইচ, (২০১০), সমাজ বিজ্ঞান পরিচিতি, হাসান বুক হাউস, ঢাকা।

গরু রচনা

গরু হল চতুষ্পদ,
        গৃহ পালিত পশু।
গরু নিয়ে লিখছি ছড়া
       আমি নারান বসু।
গরুর আছে চারটি পদ,
        মাত্র দুটি শিং।
শিং দিয়ে মারলে গুতা
        নাচবে ধা তিং তিং।

দুটো কান, দুটো চোখ;
         একটি কেবল নাক।
একটি মুখ দিয়েই সে
         হাকে দশের হাক।
একটি লেজ আছে তার
         অগ্র ভাগে কেশ।
সেই লেজটি দিয়ে গরু
         তাড়ায় মশা-মাছি বেশ।

চারটি পায়ের খুড়গুলো
         দ্বি-বিভক্ত।
গরু হল গৃহ দেব
        কর্তা ভীষণ ভক্ত।
গরুর আছে নানান আকার
        মোটা এবং কাবু-
স্বাস্থ্য-শরীর ভাল হলে
        দেখতে লাগে বাবু।

 গরু আছে নানান রকম,
        আছে নানান রং
লাল, ধূসর, মেরুন সাদা,
        মিশ্র কালো রং।

গরুর আছে খাদ্যাভাস;
        খায় নানান খাদ্য।
সেই খাদ্যের বর্ণনা
         দিতে আছি অদ্য।
ঘাস, কুটা, কুড়া ভুষি।
        জাবর কাতে একলা বসি।
সারা দিন মাঠে চড়ে
         খায় সে খেয়াল খুশি।

গরু খুবই উপকারী,
          অপকার তার অল্প।
সেই উপকারের বর্ণনা
         দিতেছি খুব স্বল্প।
দুধ পাই, পাই গোশ,
        পাই যে নানান দ্রব্য।
জ্বালানী পাই, সার পাই
        থেকে গরুর বজ্র।

গরু কর লালন-পালন,
        যত্ন কর অতি।
গরুর গুনে বেড়ে যাবে
       ভাগ্য চাকার গতি।
                                     -ঝড়ের পাখি
                                       ২৪-০৯-০৩
 

কামনা

সুখে থেকো তুমি,
সুখের আবেশ মেখে।
ভাল থেকো তুমি
স্মৃতি গুলো মোর রেখে।
সবকিছু যেয়ো তুমি ভুলে,
যা কিছু রেখেছিলে হৃদয়ে তুলে।
তুমি সুখী হলেই-
সুখ বুঝি পাবো আমি।

মিথ্যে স্বপ্ন দেখিয়োনা আর আমাকে,
মাকড়সারই জাল বুনাইয়োনা আমাকে।
আমি ক্লান্ত, পথ শ্রান্ত;
সবকিছু হারিয়ে আমি যে ভ্রান্ত।
সুখী হইও তুমি।
দোয়া করি দিবাযামী।
তুমি সুখী হলেই-
সুখ বুঝি পাবো আমি।

দিন কেটে যায়-
পড়ে থাকে হায়
শীর্ণ দেহ।
রাত কেটে যায়-
তারা গণনায়,
খবর রাখে কি কেহ?
 তবুও কামনা আমার
সুখী হইও তুমি।
তুমি সুখী হলেই-
সুখ বুঝি পাবো আমি।
                                     -ঝড়ের পাখি
                                       ৩১-০১-০৪

বিরহ মোহনা

নিশিদিন কাঁদি আমি
তোমারই বিরহে
তোমার নিঠুর ছলনায়
নয়নে জল বহে।
লাগে না ভাল- বিরক্তিকর
এই একাকীত্ব।
চাই যে আমি এই জীবনে
কারো প্রভুত্ব।
ছন্দ, সুর আর গান
হারিয়ে গেছে।

 
দ্বন্দ্বে দ্বন্দ্বে দুলিয়ে 
দুলেছি দোলনাতে।
দুঃখের ঝরনা মিলেছে 
বিরহ মোহনাতে। 
                                             –ঝড়ের পাখি
                                               ০২-০৬-০৯  

কিছু চাওয়া

কি পেলাম সারা জীবনে-
না অনুপ্রেরণা, না স্বাধীনতা ?
দূর্বার শাসন, নিয়মের কঠিন রুঢ় বেড়ী।
এতটুকু স্নেহ, প্রেম, না ভালবাসা।
কুন কিছুতে নেই বিন্ধুমাত্র সব-ইচ্ছা।
যেন খাঁচায় বদ্ধ একটা সুন্দর পাখি।
ওড়ার ইচ্ছা থাকা সত্বেও পায়ে অদৃশ্য শিকল;
সুন্দর খাওয়া, পোশাক, সুগন্ধি দ্রব্য-চাকচিক্য।
তবুও মন চায়- আরো অনেক কিছু–।
কি সেই অনেক কিছু?

নিজেও জানিনা। অভাব তো নেই কিছুরই-
তবুও! পাওয়ার অতৃপ্ত আশা।
চাওয়াও খুব বেশি নয়। দু’ মুঠো ভাত,
বাঁধা- বন্ধনহীন জীবন- উড়বো স্বাধীন
পাখির মত নীল আকাশে মেঘের সাথে।
দেখবো পৃথিবীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
কখনও নদী-ঝর্ণা, পাহাড়-গিরি, মরুভূমি,
আরও কত কি? কিন্তু, পারিবারিক বাঁধা।
নদীতে থাকে হাঙর, কুমীর-কামোট।
ঝর্নার ধার হয় পিচ্ছিল; ওখানে
যেতে হবে না, জীবনে আসতে পারে বিপদ।

এভাবে বেড়ে উঠেছি ঘরের ভিতরে
সযত্নে লালিত অপরূপ ক্যাকটাসের মত।
কিন্তু, বাইরের রুঢ় বাস্তবতার সম্বন্ধে সম্পূর্ণ অজ্ঞ।
পৃথিবিটা মনে হয় রঙ্গিন গ্লাসের মত,
চাঁদের মত সুন্দর। কিন্তু, না,
চলতে গিয়ে হোঁচট খেয়েছি বারংবার।
কেননা, কঠিন পৃথিবীর কাছে আমি এক শিশু।
খাঁচায় বদ্ধ পাখির মত- পাখা থাকা সত্ত্বেও জানেনা উড়তে—-
কেননা, ভুলে গেছে।
                              -ঝড়ের পাখি
                                ১৬-০৮-০৩

বৃষ্টি পড়ে

বৃষ্টি পড়ে টাপুর- টুপুর
            ঝম-ঝমা-ঝম-ঝম।
বৃষ্টি পড়ে কোথাও বেশি
            কোথাও বা কম।
বৃষ্টি ঝরে সকাল-সাঝে
            সময়ের নেই ঠিক।
বৃষ্টি যেন ঘড়ির কাটা-
             টিক, টিক, টিক, টিক।।

বৃষ্টি যেন ঝর্ণা ধারা
              অঝর ধারে ঝরে।
আকাশের ঐ কষ্ট গুলো
              কান্না হয়ে ঝরে।
বৃষ্টি ঝরে ছন্দের তালে
              টাপুর টুপুর টিপ।
কোথায় কখন বৃষ্টি হবে
             নেই তার কোন ঠিক।

বৃষ্টি ঝরে গাছের পাতায়,
              ফসল ভরা মাঠে।
বৃষ্টি পড়ে নদ-নদীতে
              এবং পথে ঘাটে,
বৃষ্টি পড়ে সব খানেতে
              শহর কি বা গায়ে;
বৃষ্টি পড়ে সামনে-পিছন
              ডানে এবং বায়ে।

 বৃষ্টি যখন ঝরে তখন
              পুলক জাগে মনে।
বৃষ্টি হলো রবের রহম-
              ঝরে খুশির আগমনে।