আলিঙ্গন

তোমার সাথে হয়ে যাক আজ আমৃত্যু আলিঙ্গন।
চুম্বককে হারিয়ে দেবে উষ্ণতম চুম্বন।
কবিতার ছন্ধ হোক শরীরের মাদকতা।
পিপাষার্তের পেয়ালা হোক আদরীয় নখরতা।
ক্লান্তি আর অবসাদ নিমিষেই যাবে মিলিয়ে
কাঙ্ক্ষিত দীর্ঘতম দৃষ্টি বিনিময়ে।
আমি আজ পৃথিবীর আদিম তম প্রেমিক,
ভাবছো কী? দেখছো কী তাকিয়ে চতুর্দিক।

সর‍্যি

একবার মন থেকে সর‍্যি বল,
তোমার ভুল গুলো ফুলে ভরিয়ে দেবো।
আমি হিসেবে কাচা বলে হয়তো হিসেবে তালগোল পাকিয়ে ফেলবো-
হিসাব জমা না খরচের ঘরে যাবে।
কিন্তু নিশ্চিত থেকো সেটি জমা থাকবে –
জমতে জমতে একদিন কষ্টের পাহাড় খানি
তোমাকেই উপহার দেবো।
বেদনার নীল মোড়কে জড়িয়ে।

ভালোবাসা

সব ভালোবাসা যদি ভালো ভালোবাসা হয়-
কিছু কিছু ভালবাসা তবে কেন ফেঁসে যায়?
ফেঁসে যায়, ভেসে যায়, কেঁদে কেঁদে হেসে যায়।
ভালবেসে ভালোবাসা ভাল ভাল আশা পায়,
ভালবেসে ভালবাসা কত শত ভাষা পায়।
আশা পায়, ভাষা পায়, ভাষা গুলো ছন্দতে মিশে যায়।
সবাইকে ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা।

আমার মাঝে আগুন ছিল

নিকট অতীতে সাবাই বলতো-
আমার মাঝে নাকি আগুন আছে!
তাদের সেই মৃদু বাতাসে আমি
দাউ দাউ করে জ্বলে উঠতাম।
নিজে জ্বলতাম; আরো দশ জনকে জ্বালাতম,
আশপাশের ময়লা- আবর্জনাকে পুড়িয়ে দিতে
চাইতাম নিমিষেই- স্বপ্নিল পৃথিবীর প্রত্যাশায়।
আমিও বিশ্বাস করতাম যে-
আমার মাঝে নাকি আগুন আছে!
আর বর্তমানে আমি মিইয়ে যাওয়া মুড়ি!
কিংবা ন্যাতানো, প্যাচানো এক নেতা।
না কোন কামের কিংবা কামের।
আমার ভিতরে সেই আগুন
আর আমিই খুঁজেই পাই না।
ভাবি, সত্যই কি আমার মাঝে আগুন ছিল?
নাকি সবই ধোঁয়া, ধোঁয়াশার ধুম্রজাল।
আমার আগুনে কে জানি পানি ঢেলে দিয়েছে।
আমার মাঝে আর সেই আগুন নেই।
তীব্র শীতে কিংবা ঘোর বরষায়-
আগুন মা’গি ভিক্ষায়।

পাপী

থাকতো যদি পাখা আমার – আমি হতাম পাখি,

কেবল আছে দু’খানি পা- তাই বুঝি আমি পাপী।


মন আছে বলেই আমি কক্ষনো নই মানুষ।

হাতের ব্যবহার আমায় করছে বেহুশ।


আমায় নিয়ে হাজার কথা- নিত্য সেথায় মাথা ব্যথা।

করছি কতো ইচ্ছে মতোন; পাগলামোয় জা- তা।


তার চেয়ে বেশ হতো ভালো- ধূলো মাখা মেঠো পথ,

ছুটতো না, হানাহানি- বিদ্বেষ আর খুনোখুনির রথ।

ইউথোনেশিয়া

আমি মরে যেতে চাই কোন এক বিষণ্ণ বিকেলে,
আমি মরে যেতে চাই এক্ষুনি- এই আকালে।
মরে যেতে চাই কোন এক নির্জন দুপুরে
ছায়া ঘেরা, গভীর অতল শান বাঁধানো পুকুরে।
মরে যেতে চাই – কেউ জানবে না-
অন্ত্যুস্টিক্রিয়াহীন- কেউ কাঁদবে না।
কোন বিরাম চিহ্ন নয়- নয় কোন উত্তরাধিকার-
নেবো না কিছুই- থাকবে না জমা-খরচ – হবে না
পারাপার।
সকল বোঝা, সকল দায়ভার নামিয়ে দেবো তৎখনাৎ-

মরে যেতে চাই হাসতে- খেলতে-চলতে হটাৎ। 

তোমার চোখে আমি

ভেবে দেখ আমার ছাড়া তুমি ভীষণ অচল!
না পাও ভালবাসা, না পাও বল।

কে তোমাকে জ্বালাবে বল? চুল ধরে টান,
হটাৎ করে চেঁচিয়ে উঠে চমকে দেবে প্রাণ।
আমি তোমার টিউব লাইট, ভোলা, বোকা, হাদারাম;
ভাইবা দেখো করে দেই তোমার হাজারো কাম।

ঝড়ের পাখি
০৩-০১-১৪

আপেক্ষিক

বন্ধু হয়তো আমার কষ্ট তোমার কাছে তেমন বড় কষ্ট নয়;
কিংবা ধরো কষ্ট গুলো তোমার কাছে স্পষ্ট নয়।
কিংবা আমি সেল করি না, দেই না তেল নিত্য।
কষ্ট আমি লুকিয়ে রাখি, আমি কষ্টের ভৃত্য।
তাইতো তোমার কষ্ট গুলো সবার কাছে দৃশ্যমান।
আমার গুলো ধুলা পড়া, চুপসে যাওয়া- মৃয়মান।
তোমার যেমন কষ্ট আছে, আমার কষ্টও কম নয়,
কষ্টে আমি ক্লান্ত ভীষণ, কষ্ট বুকে বহমান।

মাথার মরণ

বন্ধু তোমায় কথা দিলাম রাগবো না আর কভু;
চারিপাশে হাজার হাজার অসংগতি তবু।
প্রশ্ন করে বৃথা তোমার নাড়াবো গদি
মাথার ভিতর, মনের ভিতর প্রশ্ন থাকেও যদি।
আজ থেকে আর দশ জন হবো- দশের এক নয়;
আমায় নিয়ে মিছে চিন্তা; আর পেয়ো না ভয়।
মরবো ধীরে ধীরে- স্বেচ্ছা মরণ জানবে না কেহ,
ধরণী পরে চলবে ফিরবে আত্মা বিহীন দেহ।
ঝড়ের পাখি
২৮-০১-১৫

ভালবাসা অমলিন

উড়ো চুমোয়, সাদা ধুলোয় 
সাজাবো তোকে- ঠোঁটের তুলোয়।
চোখের পাপড়ি, মনের টুকরি।
ভালবাসবো অবদি থুত্থূরি।