সংসারী

তোমার সাথে রাত-ঘুম
ভালবাসি ভাত ঘুম;
কবিতা তোমায় দিলাম ছুটি-
বউয়ের সাথে বানাবো রুটি।

চাঁদ দেখে মুগ্ধ হওয়ার আগে
যায় চলে যায়- খুনসুটি অনুরাগে।
আর শুনি না মধুর কোন গান-
করছি শুধুই ঘ্যান-ঘ্যান!
বৃথায় কেন অশ্রু তোমার চোখে?
আর থাকি না উদাস-উদাস মুখে।
তোমার হাতে খুন্তি কড়াই- আমার হাতে ব্যাগ;
দু’জন মোরা দু’জনাতে করেছি সব ত্যাগ।
তোমার মুখের হাঁসির লাগি
দুঃখ আমার লুকিয়ে রাখি;
মিথ্যা আমি হাজার বলি
দিচ্ছি কত জোড়া- তালি।

ঝড়ের পাখি
২৭-১১-১৪
নাচোল, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

না বলা ভালবাসা

নয়নে বেঁধেছি, কত যে সেধেছি,
পিছে মিছে ঘুরে মরেছি।
সময় যেতো থমকে- ভাললাগার দমকে!
রুপের মায়ায় চমকে।

দৃষ্টি যায় আটকে- আমি যাই লটকে!
জানানো হল না- যাই ভড়কে।
স্মৃতির ফিল্মে- আছো তুমি দিলমে
বেঁচে নেই- কিলড মে!
এখনো হাসো- পাশাপাশি বসো,
সেজে গুজে আসো।
পাশে কেউ অন্য, আমি শুধু শূন্য,
হয়ে গেছি পণ্য।
ভাল বাসা আছে, ভালবাসা আছে!
তুমি নেই কাছে।
মুগ্ধতা হারিয়ে- হাত দুটো ছড়িয়ে
আমি আছি দাঁড়িয়ে।

ঝড়ের পাখি
২৬/১১/১৪
নাচোল, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

তা

তোমার চিবুকে চিবুকে চপলতা,
চোখের চাহনিতে চঞ্চলতা,
ঠোঁটের হাঁসিতে মায়াময়তা,
ইশারায় আছে মুগ্ধতা,
চুলের ছায়ায় নিবিড়তা,
শরীরের ভাঁজে মাদকতা।
প্রেমিকা নও! তবে বল কি তা?


ঝড়ের পাখি
২৬/১১/১৪
রাজশাহী

পুনর্জন্ম

প্রেমানলে পুড়ছি আমি
পুড়বো কত কাল না জানি?
হচ্ছে দেখো কানাকানি,
মনের ভেতর টানাটানি।

আমার চোখে তোমার স্মৃতি,
জ্বলছে দেখো ধিকি ধিকি-
কাল না ভেবেই আজকে আমি
ভাবছি রাজা! তুমিই রানী!
ক্যমনে কবো মনের কথা?
পাই না খুঁজে পথ-দিশা।
ভয় করি না- না পাই পাবো
প্রেম বিরহে মজনু হবো।
তবু আমি হবোই হবো-
প্রেমানলে অঙ্গার হবো,
পুড়বো তবু হবো না ছাই
লক্ষ্য আগুন জ্বালাতে চাই।
তোমার প্রেমে মরণ হবে
লাখো প্রেমিক জন্ম নেবে।
পুড়বে আবার প্রেমানলে-
তাদের প্রেমেও উঠবো জ্বলে।

ঝড়ের পাখি
২৪/১১/২০১৪
নৃবিজ্ঞান বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী।

প্রফেশন

কথা বেঁচে খাই যে আমি
কথা আমার কাছে দামি
কথা বেঁচে পেট চলে যায়
যাচ্ছে এ দিন (কথা) কেনা- বেচায়।

ঝড়ের পাখি
২৩-১১-১৪

ভালবাসা

তোমার চোখের কাজল হবো,
ঠোঁটের লিপিস্টিক;
চোখে চোখে রাখবো- চুমোর মায়ায় বাঁধবো-
নাচবো দিক্বিদিক।

ঝড়ের পাখি
২১-১১-১৪

সুযোগ

কাক সুন্দর তার আকাশে!
তেমনি আমি আমার প্রেমে।
ভাবছো আমি কেমন ছেলে।
দেখাবো সব সুযোগ পেলে।

-ঝড়ের পাখি
২১-১১-১৪

দুষ্টমি

গোলাপের লালচে রঙে জাগে লালসা
বন্ধু তুমিই ভরসা;
চোখটা আমার খচখচিয়ে যাচ্ছে অনুক্ষণ
কেন করছো জ্বালাতন?

অজুহাতের মিথ্যে মায়ায় রেখেছো দূরে-
অনুনয়ের সুরে।
শাসন করো, মার-ধরো- মানছি না বারণ-
করবো নিরাভরণ।
মিষ্টি তুমি, দুষ্ট তুমি বলবে তুমি শেষে-
আমায় ভালবেসে।

ঝড়ের পাখি
২১-১১-১৪
ভাড়া কুটির, মানিকগঞ্জ।

কপাল

ভালো ভালো ভাষা মোর ভালবাসা পেল না।
ভালো ভালো কথা গুলো ভালকথা হল না;
ভালো ভালো চাওনি গুলো চোখাচোখি হল না।
ভাললাগা, ভালবাসা প্রেমের দেখা পেল না।
ভালে ভালো, ভালো ভাল আর বুঝি হল না।

ঝড়ের পাখি
২০/১১/১৪
ভাড়া কুটির, মানিকগঞ্জ।

খেলা

হৃদয়ের দাগ- সেটুকু আমারই থাক,
সম্পর্কের মসৃণতা- তোমাকেই মানায়-
আমিতো অচ্ছুত কোন ভাগাড়ের ভাগ,
রুচবে কি আর নিয়ন জ্বলা ঝুল বারান্দায়।

ভালবাসা এক দুর্লভ পরশ পাথর,
পেলে লোভী; না পেলে কবি।
আমি তুমি এক যন্তর- মন্তর,
কাব্য যেখানে এক অভিলাষী কবি।
ভাললাগা থেকে যদি ভালবাসা হয়
চোখে চোখ, হাতে হাত মানে প্রেম।
দুটি কথা, ক’টি গান- আদিখ্যেতা হয়-
হাসি-কান্না, আবোল-তাবোল; হয় কি কখনো শেম।
তুমি আজ ঘরনি- আমি নই রাজা
প্রতিশোধ নয়- পেলে প্রকৃতির সাজা।
আমার চোখে অগ্নি আজ- তোমার চোখে জ্বালা;
পাশা খেলায় জয়ী আমি- উল্টালো পাশার পালা।

-ঝড়ের পাখি
১৯-১১-১৪
ভাড়া কুটির, মানিকগঞ্জ।