হেমন্ত

চারদিকে বেশ কুয়াশা,
লাগছে ধোয়াশা।
কাশ ফুল যদি হয় শরৎ এর;
কুয়াশা কি হেমন্তের?

খোঁজ

খুজি ফিরি মাঠে ঘাটে বন্দরে
তুমি থাকো অন্তরে;
পাই না খুঁজে,
থাকি চোখ বুজে।

অতৃপ্ত ইচ্ছা

মাঝে মাঝে মনে হয় –
চা বিক্রেতা হই…
কিংবা দূর পাল্লার গাড়ির হেল্পার।
বা, একটা পিটব্যাগ নিয়ে বেড়িয়ে পড়ি-
দূর অজানায়……
কিংবা সকল যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে
বসে থাকি একলা একা…
চার দেয়ালের মাঝে;
শুরু করি এক বন্দি জীবন।।

মাঝে মাঝে মনে হয়-
কি মনে হয়?
কি লাভ হল?
এতো কষ্ট করে এতো দূর এসে?
তার চেয়ে ভাল ছিল-
কৃষকের ছেলে কৃষক হওয়া।
বুঝতাম না পুঁজিবাদ,
কিংবা নাগরিক টানাপড়েন,
মেকি ভালবাসা, অভিনয়…
খুব অস্থির লাগছে…
অস্থির এক অস্থিরতা বিরাজ করছে
ঘরে-বাইর, অন্তরে- মন্তরে।
ঝড়ের পাখি
AO-OH-AD

যাযাবর

আমাদের নেই বাড়ি, নেই কোন ঘর;
থাকি মোরা হেথা সেথা- তাই যাযাবর।
সাধ আছে- নেই ছাঁদ; ভূমির কাঙআল,
বউ বলে, গাড়ি-বাড়ি- করি বাওয়াল।

মরীচিকা


হৃদয় একটা
অগ্নিগিরি- জ্বলছে অহর্নিশ
ফুটছে সেথা
টগবগিয়ে- লাভা নামের বিষ।
চোখ দুটো যে
গভীর পুকুর জলে টলমল;
হাঁসি আমার ভরা
নদী বইছে কলকল।
মাথার ভিতর
তোমার স্মৃতি ঝিঁঝিঁ পোকার মতন,
ডাকছে তারা,
করছে তারা আমায় জ্বালাতন।
আমি শুধু একলা
একা, ছিলাম আছি আজো বোকা,
আলেয়াকে আলো
ভেবে হচ্ছি মরীচিকা।
জানি তুমি আছো
সুখে, আমিও নেই দুখে-
তবুও কেন তোমার
তৃষ্ণা আমার এ দু চোখে।
 
        -ঝড়ের
পাখি
        ০৫-১১-১৪

প্রেমিক


আমার একটাও
ভালবাসা নেই-
নেই রুপালী
মায়াবী জোছনা।
নেই বৃষ্টি
ভেজা আকাশ ছোঁয়া
বাতাসে সুরের
মূর্ছনা।
নেই স্মার্ট
ফোন; নই আমিও স্মার্ট;
নেই আই-পড,
আই-প্যাড, বিন জেলী, ব্র্যান্ডের টি-শার্ট,
নেই
ফেসবুক-টুইটার;-নই চিত-বাটপার।
বলতে পারো
মফিজ, আবুল, খ্যাত যা ইচ্ছে আর-
তার পরেও মন
আছে, আছে চোখ।
সেই চোখে আটকে
গেল তোমার রুপ, সেই মুখ!
পারি না লিখতে;
কিংবা গাইতে-
তবুও আমি
প্রেমিক।
ভালবাসি
তোমাকে; হ্যাঁ কিংবা না-
তোমার বিবেচনায়
সঠিক।
       -ঝড়ের পাখি
        ৩০-১০-১৪

নিশি রুপ


জ্যোৎস্না রাতে
ঝিঁঝিঁ পোকা
ডাকছে
ঝোপে-ঝাড়ে।
ঐ খানেতে চুপটি
মেরে
ব্যাঙ রয়েছে
আড়ে।  
নিঝুম রাতে
হুতোম প্যাঁচা
হুতোম হুতোম
চায়;
চোখ দু’টো তার
অগ্নি গোলক
দেখে ভয় পায়।
নিশি রুপ
                পূর্ণিমা রাত চাঁদের মাঝে
                কালো কালো কি?
                ওটা নাকি চাঁদ কলঙ্ক
                সত্যিও তা কি?
                অমাবশ্যার অন্ধকারে
                কেমন যেন গুমোট লাগে,
                চারিদিকে কালো আঁধার-
                হঠাৎ যেন ভয়টা জাগে।
আকাশের ঐ লক্ষ
তারা
মিটি মিটি
জ্বলে।
ওরা যেন চুপি
চুপি
মনের কথা বলে।
রাতের মাঝে আছে
যে রুপ
দেখতে সবাই পায়
না।
দেখেছে যারা
একবার তা’রে
ভুলতে কেউ পারে
না।
        -ঝড়ের পাখি
        ১৪-০৭-০২

স্বার্থপর

ছড়িয়ে দেবো ভালবাসা দূরের ঐ আকাশে।
করবো রোমাঞ্চ নিত্য প্রহর নাম না জানা বাতাসে।

বাধ্য হবো বাসতে ভাল আমি আমার নিজেকে।
ভাববো না আর বললো কে কী- সামনে কী বা পিছনে?

আমার আবার আমি হবো নিজের প্রেমে মুগ্ধ।
উঠবো জেগে করবো আবার সব কিছুতেই যুদ্ধ।

ধর্ষণের পর আমি নই তুমিই ধর্ষিত।
ইভ টিজিংও জেনো তুমি তোমার পরেই বর্ষিত।

-ঝড়ের পাখি
২৯-১০-১৪

নোবেল

শাপে বর (মালালা), বরে শাপ (ইউনুস);
পাপে মৃত্যু, লোভে পাপ,
দেবো নাকি সাগরে ঝাঁপ?
জীবন জুড়ে কত অনুতাপ-
আমার কবে হবে বল বাপ?

অনেক কিছু করেছো তুমি;
ছোট্ট একটু এই বয়সে।
তোমার বয়সে আমি ঘুমিয়ে
কিংবা বাথরুমে বা নেটে …
অভিনন্দন তুমি আমার প্রজন্মের
উদ্বুদ্ধ আমি অনুপ্রানিত।

ফিরে পাওয়া

আজকের সন্ধ্যাটা প্রতিদিনই চাই
এই তোমাকেই যেন সারা জীবন পাই,
ভালবাসি তোমার এই পাগলামি
অল্প আলোয় চোখের তারার ঝলকানি।

চিক চিক করে ওঠা ইচ্ছে গুলো
ডানা মেলুক গোটানো পাপড়িগুলো,
গুন গুন গুনিয়ে যাও তুমি
সেই সুরে সাহস পাই আমি।
আধার টা আলো হয় হাসিতে
আমি শুধু চাই ভাল বাসিতে।
-ঝড়ের পাখি
২২-১০-১৪