মুক্তি

মুক্তি তোমায় দিয়েছি মুক্ত পাখির মতো
উড়ো তুমি যেথায় খুশি নিজের ইচ্ছে মতো।
আমি তোমার শিকল নই কিংবা পিছুটান-
কিংবা আমি গাইবো না আর প্যানপ্যানানো গান।

১০ম মৃত্যু বার্ষিকীতে

তোমাকে কক্ষনো জানানো হয় নি যে আমি তোমাকে ভালবাসি কতটা। কিংবা তখন জানতামই না যে তোমাকে আলাদা ভাবে ভালবাসি বলতে হয়। তোমার সাথে সব সময়ই একটা দ্বান্দিক সম্পর্ক আমার। তুমি কক্ষনোই আমার প্রতি তোমার দুর্বলতা প্রকাশ হতে দাও নি। কিন্তু আমি জানতাম তুমি আমাকে অনেকখানি ভালবাসো। আমাকে নিয়ে তোমার স্বপ্ন ও সাধ ছিল অনেক বেশি। তোমার কঠোরতা আমাকে এই পৃথিবীতে টিকে থাকতে শিখিয়েছে- আমি টিকে আছিও। শুধু তুমি নেই……
তুমি নেই বলে অনেকেই সেই জায়গাটা নিতে চায়; কিংবা তোমার শুন্যতা পূরণ করে দিতে চায়। কিন্তু কি একটা অদৃশ্য শক্তি আমাকে তাদের থেকে আরো দূরে ঠেলে দেয়। তারা হয়তো আমাকে ভুল বোঝে। কি আর করা…
কাল সারাদিন ছিল তুমিময়। কাল সারাদিন ছিল আমার মন ভারাক্রান্ত। নিজেকে বন্দি করে রেখেছিলাম। প্রতি বছর এই দিনটা আমার সবচেয়ে খারাপ যায়। তবু আমি এই খারাপ লাগটাকে আঁকড়ে রাখতে চাই। কাল মানে ৯মে তুমি আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলে। এই নিয়ে আমার ক্ষোভের অন্ত নেই…… শুধু বার বার করে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে – তুমি কেন চলে গেলে? কেমন করে পারলে আমাকে ছেড়ে চলে যেতে? তুমি তো এত নিষ্ঠুর ছিলে না।
তোমার বস্তুগত স্মৃতি বলতে আছে একটি কাঁথা (মলিন- জীর্ণ)। সেটা গায়ে দিলেই শুধু তোমার স্পর্শ পাই। সেটার দৈন্য দশা দেখে বউ স্বযত্নে তুলে রেখেছে- তোমার ছোঁয়াও আর পাইনা।
সেলফির এই যুগে একটা প্রিন্টেড ছবিও নেই আমার কাছে। কিংবা দূরালাপনি যন্ত্রের সাহায্যে পৌঁছাতে পারি না তোমার কাছে। ছুটি নিয়ে তোমার সানিধ্য নেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও- জানা নেই পথ ও পাথেয়। তাই তুমি বিনে আমি একা……
মাঝে মাঝে মনে হয় তোমাকে ভুলতে পারলেই ভাল হতো। বেশিরভাগ সময় যান্ত্রিক এই যুগে ব্যস্ততায় ভুলে থাকি; কিংবা ভুলে থাকার অভিনয় করি। কিন্তু তোমাকে ভোলা আর হয় না……
প্রতি বছর মে মাসের ২য় রবিবার তোমাকে নিয়ে একটি বিশ্ব দিবস পালিত হয়। অনেকেই পালন করে- নানা ভাবে, নানা রঙে…… আর আমি হিংসায় জ্বলে পুড়ে মরি…… আমি কেন পারি না……
আরও কষ্টের কি জানো আমাকে ছেড়ে তোমার চলে যাওয়ার দিনটা ৯ মে’র আশেপাশে থাকে সেই দিবসটা। এই যেমন কাল ছিল তোমার চলে যাওয়ার দিন… আর আজ সেই দিবস। যা আমার চিতার আগুনে ঘি ঢেলে দেয়……
আমি জানি তুমি আমাকে অনেক ভালবাসতে………………
কিন্তু আমি কক্ষনো জানাতে পারি নি আমিও তোমাকে কত ভালবাসি মা……
তোমার ১০ম মৃত্যু বার্ষিকীতে জানাই ‘বিশ্ব মা দিবসের’ শুভেচ্ছা……
যেখানেই থাকো… শত চেষ্টা করলেও আর তোমাকে জ্বালাতে পারবো না……

ফেরা

কেমন আছো? আছো কি সুখে?
দুখে যদি তবে কেন মোরা দূরে? 
আসো তবে নতুন করে ফিরে
সুখে দুখে ভালবাসা, ভালবাসি দুখে।

আবেগের বুদবুদ

ভালবাসা ছাড়া আর আছে কি?
ভালবাসা আদৌও আছে কি?
শুধু আবেগের বুদবুদ –
মন আর শরীরের খুত খুত।

যাওয়া

তোমার কাছে যাব বলে বসে আছি একেলা-
সবাই যায় প্রিয়র কাছে আমার যাওয়া হলো না।

বর্ণান্ধ

লব বড় না হর; তাই নিয়ে আজ দ্বন্দ্ব
তোমার আর আমার মাঝে ঝগড়াও নয় মন্দ।
দ্বন্দ্ব যদি না থাকে তো ক্যমনে পাবো ছন্দ?
যতই মানুষ খুজে ফিরুক অন্য কিছুর গন্ধ।
অমিল যদি না থাকে তো মনের দুয়ার বন্ধ-
দেখবো ক্যামনে রংধনু; হবো বর্ণান্ধ।

ভালবাসার জোনাকি

তোমায় আমি কি শেখাব
বলতে পারো সখি?
সখির সাথে শখ মেলে না-
তাইতো আমি দুখি।
তুমি শুধু দেখো নাকো; আমি দেখি
কিংবা দেখে পাখি –
মনটা আমার কেঁদে মরে
তবু শুস্ক থাকে আখি।
কিংবা জানে জোছনা আর
মিট-মিটানো জোনাকি-
ভালবাসা তবে কি হায়!
নাক – কানের সোনাকি?

আত্মমগ্ন

তোমার যদি ইচ্ছে করে
তাইলে ভালবেসো
নইলে তুমি ইচ্ছে ডানায়
সাগর জলে ভাসো।
বাসি ভাল বলছি আজো
আগের মতো-
তুমি শুধু নতুন করে
নিজেকে নিয়ে মাতো।

স্যরি

মানুষ হিসেবে আমরা মাঝে মাঝে অন্যকে ভুল বুঝে প্রতিপক্ষ (শত্রু) বানিয়ে ফেলি। নিজের গণ্ডিকে আর বেশী সংকীর্ণ করে তুলি। তার চেয়ে ভাল হয় বন্ধু বানিয়ে নিজের দল ভারী করা। নিজেকে শক্তিশালী করা।
শত্রু বানালে নিজেই দুর্বল হয়ে যেতে হয়; আর বন্ধু বানালে নিজের হাতকে শক্তিশালী করা হয়।
আমিও চলার পথে অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী, বন্ধু কিংবা পরিচিত জনকেই প্রতিপক্ষ বানিয়েছি…
তাদের সাথে আজ যোজন যোজন দূরত্ব। ইস যদি আবার ফিরে পেতাম।
জানি তোমরা ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় আমাকে আঘাত করেছো, আহত হয়েছি আমি… তবে আমিও নিরপেক্ষ ছিলাম কিনা? তাই ভাবাচ্ছে আমাকে……
তোমাদেরকেই বলছি………

মেক আপ

তোমাকে জানতে চাই
জানাতে চাই আমাকে;
ভালবাসি শরীর-মন
তোমাকে চাই তামাকে।
ভালবাসি সেলফি,
শুধু নিজেকে
দিন রাত ক্লান্ত নই
সাজাতে আর মেকাপে।