ছাই

মরে গেছি হায় – তোমার ঐ চাহনিতে
ভালোবেসে হায়- চলো যাই হারিয়ে
হাতে-হাত, চোখে চোখ রেখে
হবো বিলীন মায়াবী জোছনায়।
প্রেমে খুব করে নিঃস্ব হবো
এক চিলতে সুখের আশায়
কবিতায় বেঁচে রবো আজীবন
জ্বলে পুড়ে হবো ছাই।
জুবা, সাউথ সুদান, মার্চ ০৯, ২০২

রাম অথবা রাবণ

জীবনের ৩৮ টি বসন্ত শেষ।
বাংলাদেশের গড় আয়ুষ্কাল অনুযায়ী জীবনের অর্ধেক শেষ।
ছোট বেলা থেকে ভিন্ন কেউ হতে চেয়েছিলাম-
কিন্তু সময়ের সাথে সাথে খুবই সাধারণ কেউ হয়ে যাচ্ছি। রুটি আর রুজির পিছনে ছুটতে ছুটতে এই পৃথিবীতে কোন ইমপ্যাক্ট রেখে যেতে পারছি না সেটাই সবচেয়ে বড় আক্ষেপ।
সময় খুব দ্রুতই ফুড়িয়ে যাচ্ছে। জীবনের সূর্যও মধ্যগগন থেকে হেলে পড়েছে পশ্চিমে কিছূটা।
জানি না নতুন করে আর কোন কিছু শুরু করা হবে কি না? নাকি এ ভাবে ক্ষয়ে যাওয়া রোলিং স্টোনের মতো- মিলিয়ে যাবো একসময় বালু কণায়। উড়ে বেড়াবো বাতাসে, আকাশে আত্মা হয়ে।

একজন সাধারণ মানুষ হওয়া অনেক বেশি কষ্টের- হিরো কিংবা ভগবান হওয়ার চেয়ে। কারণ একই অঙ্গে ধারণ করতে হয় রাম আর রাবণের বৈশিষ্ট্য। আমিও ভিন্ন কেও নই- অতি নগণ্য।

তাই আমি অধিকাংশের কাছে যেমন রাবণ তেমনই কিছু মানুষের কাছে রামও। আমি যার কাছে যাই হোক না কেন- তাতেই খুশি। কক্ষনো মেকি হয়ে নতুন করে নিজের ব্যক্তিত্ব নির্মাণ করতে আসবো না। শুধু চেষ্টা করে যাবো শুধু মনে রেখে আমায়-

রাম অথবা রাবণে।

ভালোবাসা সবসময়

 

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৩

আদল

তোকে মনে পড়ে বললে ভুল হবে
তোকে ভুলতে পারি নাই সেটা মন বলে
তুই ফোনের ওপারে খিলখিলিই উঠলেই
নেচে ওঠে মন, আন্দোলিত হয় হৃদস্পন্দন।
তুই ডাকলেই ছুটে যেতে চায় পরিযায়ী পাখি হয়ে
তুই চাইলেই সৈকতে ছড়িয়ে দেবো মুক্তা বালুতে
তালুতে তুলে নেবো কৈলাস পর্বত হনুমান হয়ে
সঞ্জীবনী বটি জমিয়ে রাখি সিন্ধুকে তোর অমরত্বে।
তুই শেকড় আমার ঝড়ে টিকে থাকার প্রেরণা
পিছুটান ছুটে চলায় টেনে ধরা মায়াময় লাগাম
হতে চাই তোর রথ, পথ, গৎ ভাঙা সারথি
ছায়া হবো রোদে; চল যাই ছাদে-ঝাঁপ দেই ফাঁদে।
আর কিছু চাই না, কুড়িয়ে ছড়ানো তোর আবদার
স্বেচ্ছায় বরণ করা তোর দাসত্বের বেড়ি
হোক গলার মালা, হাতের বালা, চোখের কাজল
তুই বুঝি আমারই প্রতিচ্ছবি, ছাঁচে গড়া আমার আদল।।
…….
৩০/০৩/২০২১
কলাতলি, কক্সবাজার

মেকিং লাইফ বেটার

আপনার কি কখনো মনে হয়েছে- ধনী (আর্থিকভাবে সচ্ছল) হওয়ার জন্য যা যা করার দরকার- তার জন্য খুব বেশি দেরি করে ফেলেছেন? (বয়সটা বড্ড বেশি হয়ে গেছে। কেন যে আগে থেকে শুরু করলাম না।)
এমন একটি ভয়ঙ্কর গল্প আছে যা সম্প্রতি খুব বেশি আলোচিত হয়েছে; যেটি আপনাকে উপরের প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে সহায়তা করবে।
গল্পটা এমন—-
এমন অনেক মানুষ আছে যারা সঞ্চয় এবং বিনিয়োগ (ইনভেস্ট) করতে অনেক দেরি করে, সময় নেয়। কিন্তু যারা দ্রুত শুরু করে- বিশেষ করে ২০ বছর বয়সের আগেই- তারা অবসরের সময় বা বৃদ্ধ বয়সে অনেক বেশি ভালো এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন কাটায়। যারা ৩০ বছরের পরে সঞ্চয় এবং বিনিয়োগ শুরু করে তাদের তুলনায়।
কিন্তু যারা ৩০ বছরের পরে শুরু করে না এবং জীবনে খুব বেশি সঞ্চয়, বিনিয়োগ কিংবা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করে নি। তাদের কি অবস্থা হয়? তারা প্রতিদিন এক বিমর্ষ ও রুঢ় অনুভুতি নিয়ে সকালে ঘুম থেকে ওঠে। তাদের অধিকাংশই এই সিদ্ধান্তে পৌছায় যে- অবসর নেয়া তার জন্য সম্ভব না। এমনকি ৭০ বছরের পরেও তাদের দৈনন্দিন খরচ চালানোর জন্য কাজ করে যেতে হয়। আবার যারা মনে করে- বেশ তো চলছেই এ জীবন চিন্তা কি? তারা আবিস্কার করে যে- তাদের মাটির ব্যাংকটা এখনো ভরে নি। কিংবা মাটির ব্যাংকটা ভেঙ্গে দেখে যে যতোটুকু আশা করেছিল তার ৪ ভাগের একভাগ হয় নি। (their nest egg just isn’t enough.)
প্রাচীন চীনে একটা প্রবাদ আছে, “একটি গাছ লাগানোর সবচেয়ে ভালো সময় আজ থেকে ২০ বছর আগে। (যদি কোন একটি গাছ থেকে আজকেই ফল বা সেই গাছ থেকে অন্য কোন লাভ পেতে চাও- তাহলে সেই গাছটি আজ থেকে ২০ বছর আগে লাগানো উচিত।) আর ২য় ভালো সময় হচ্চে- আজ, এখনই।”
“The best time to plant a tree was 20 years ago. The second-best time is today.”
এখন যারা আমার মতো দেরি করে ফেলেছি; যাদের বয়স ৩০ বছরের বেশি। তারা কি করবে?
এখন টাইম মেশিনে চড়ে ২০ বছর বয়েসের আগে ফিরে গিয়ে তাড়াতাড়ি বিনিয়োগ করা কোন ভাবেই সম্ভব নয়। কিন্তু, আজ, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সবচেয়ে ভালো সময় নিজেকে আর্থিক ভাবে সচ্ছল নতুন সুযোগ রয়েছে …… নিজের সেই পুরনো হারিয়ে যাওয়া সময়কে পুনরুদ্ধার করার । (না এর সাথে লটারি জেতার কোন সম্পর্ক নেই। )
আজ, সব বয়সের লোকেরা ইন্টারনেট ব্যবহার করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করছে। আমি সব ধরণের অনলাইন উদ্যোক্তা, স্টক বিনিয়োগকারী এবং রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারীদের সফল হতে দেখেছি:
১. কর্পোরেট চাকুরীজিবী
২. গৃহিণী যাদের নুন্যতম কাজের অভিজ্ঞতা নেই
৩. যারা নিজেদের ৯-৫টা বিরক্তিকর চাকুরি থেকে পালাতে চাইছিলো
৪. একজন অবসর প্রাপ্ত ব্যাক্তি জিনি নতুন কোন আয়ের উৎস খুঁজছেন
একজন ব্যক্তির ব্যাকগ্রাউন্ড সত্যিই এই জন্য কোন ব্যাপার না ……
এমনকি আপনার ভৌগলিক অবস্থানও কোন বিষয় না।
ল্যাপটপ এবং ইন্টারনেট অ্যাক্সেসের মাধ্যমে যে কেউ এখন এটি করতে পারে।
আপনি অতীতে কতো সময় অযথা ব্যয় করেছেন সেটা কখনোই মুখ্য কোন বিষয় না। শুধু একটা জিনিসই মুখ্য- আপনি এখনই কিছু না কিছু শুরু করছেন।
তো, আপনি কোথায়, কখন আপনার গাছ লাগাতে যাচ্ছেন?
মেকিং লাইফ বেটার,
রবার্ট কিয়োসাকি
(রবার্ট কিয়োসাকি’র লেখা থেকে ভাবানুবাদ)

সুখ পাখির বিষাদঘ্রাণ

প্রকাশকঃ পেন্সিল পাবলিকেশন্স
ছোট গল্পের বই। মোট গল্প আছে ৮টি। ঝরোকা, অলীক যাপন, পাহারাদার, অন্দরমহল, পলাতক, মিঠুন কিংবা অজস্র ঘুণপোকার গল্প, সমান্তরাল, রোদের উড়ান। আটটি গল্পের একই সুর- হজারো সুখে থাকার পরে- বুকের মাঝে কোথায় যেন কিসের একটা কষ্ট লুকিয়ে আছে। এটাই এই বইয়ের অন্যতম শক্তিশালী দিক। সধারণত ছোট গল্পের বই গুলোতে সঙ্কলিত গল্পগুলোর মাঝে মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু এই বইটিতে সেটা নেই। প্রতিটি গল্পই পাঠককে মন খারাপ করে দেবে। তবুও আপনি পড়তে থাকবেন। একটা টান কিংবা মায়া রয়েছে পুরো বইটি জুড়ে। লেখক গল্পের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য রেখেছেন। একটা গল্পের সাথে অন্য গল্পের কাহিনী, চরিত্র কিংবা প্রেক্ষাপট ভিন্ন। যদিও সবগুলো মধ্যবিত্তের সাজানো সংসারের মাঝের লুকিয়ে থাকা বিষাদ ঘ্রাণের গল্প।
বইটি পড়তে গিয়ে আমার ভীষণ ভালো লেগেছে চরিত্রের নামকরণ- ঝরোকা, রুপল, উপল, তনিমা, হেমাঙ্গি, প্রিয়ংশু, রায়া, প্রভৃতি। ভালো লেগেছে লেখকের উপমার ব্যবহারও- রোদের উড়ান গল্পে “ভেজা সজল বাতাস ওর কানে ফিসফিসিয়ে এক মাথা ঝাঁকড়া চুলে নাক ডুবিয়ে চলে যায় ফের দুরের পাহাড়ে।” ভালো লেগেছে প্রতিটি গল্পের টুইস্টও। তবে ধাক্কা খেয়েছি কয়েকটি গল্পে- ঝরোকা, পলাতক। এমনভাবে ধাক্কা খাবো ভাবি নাই। (তুমি ক্যম্নে পারলে এমন করে ভাবতে? আচ্ছা লেখকরা কি একটু বেশি সাইকো হয়?)
কখনো কখনো লেখক এক একটি গল্পের মূল বিষয় বস্তুর বাইরের বিষয় নিয়ে এতো বেশি থিক ডিসক্রিপশন দিয়েছে যে- সেটা গল্পের সাথে অপ্রাসঙ্গিক মনে হতে পারে। যেমন- ঝরোকা গল্পের অফিস ডেকোরেশন নিয়ে এতো বেশি বর্ণনা না হলেও পারতো। (কিংবা ছোট গল্পে হয়তো এমনটা হয়)
লেখক যেমন একজন আত্মবিশ্বাসী দৃঢ়চেতা ঝরোকার বিশাদ ঘ্রাণের গল্প শুনিয়েছেন, তেমনি শুনিয়েছেন এক পৌঢ়ের দেশ নিয়ে কস্টের গল্প, কিংবা একজন সদ্য বাবার মেয়ের প্রতি ভালোবাসার মধ্য দিয়ে অতীতের কোন অপরাধের স্মৃতিচারণ।
বইটিতে নেই কোন সূচীপত্র, আর বানান ভুল নেই বললেই চলে। তবে আমার কাছে যে কপিটি এসেছে- সেখানে ৩৪ থেকে ৪৯ পেজ পর্যন্ত বেশ উলোট পালট। পড়তে কষ্ট হয়েছে। এবিষয়ে প্রকাশকের দৃষ্টি দেয়া উচিত।
বইটি সংগ্রহে রাখার মতো কিনা সেটা পাঠক বিচার করবে। কিন্তু আমার মনে হয়েছে- সব পাঠকের বইটি পড়লে খারাপ লাগবে না। সময় এবং অর্থ অপচয় হবে না এতোটুকু বলতে পারি।
এটা কোন বইয়ের রিভিউ হলো কিনা জানি না। কিংবা সেটা লিখতেও চাই নি। একজন বন্ধুর বই পড়ে- নিজের অভিব্যক্তিই লিখে রাখলাম।
পরিশেষে, দিদি তোমার লেখনি অনেক ভালো হচ্ছে দিনকে, দিন। থেমো না। আমি তোমাকে ভীষণ ভীষণ হিংসা করি। আর তোমার প্রতি হিংসা এই বই পড়ে আরো বেশি বেড়েছে।
ধরণঃ গল্পগ্রন্থ
প্রকাশনীঃ পেন্সিল পাবলিকেশন্স

অহর্নিশ

তোমার রাগে অনুরাগে
বাঁচি আমি অহর্নিশ
আমার অস্তিত্ব তোমার
অভিমানে অনুযোগে
আমি তো মিয়িয়ে যাবো
তোমার অবহেলায়
তোমার অস্থিরতায়
সকল অহংকার জমানো
মনের সিন্ধুকে বদ্ধ
তোমার স্মৃতিকে জড়িয়ে
ভালোবসি তোমায়
দিনশেষে সত্য
এটুকুই জেনো অবশেষ।।
 আজংটক, সাউথ সুদান, জুন ১, ২০২৩

অঽং

এ অস্তিত্ব, এ অঽং
মিশে যাবে মৃত্যুতে-
তবে দেরি কিসে?
মিশে যাক হেথা
এই বেলায়, ঝুম বৃষ্টিতে
ধুয়ে যাক সব পাপ
পলি মাটি হয়ে
ফলাক ফসল
কৃষকের পঙকিল হাতে।
কক্সবাজার,  জুন ১৭, ২০২২

আবোল তাবোল

এই পৃথিবী অনেক বড়
ইচ্ছে মতোন সাজতে পারো
সাজার সমান মিলবে সাজা
এক ছিলেম মিলবে গাঁজা?
সুখটানে যাবো ভুলে কষ্ট শত
রক্ত জমাট বুকের কাঁপন
থমকে গেলেই সমাপ্তি হায়
কিসের হিসাব গোলমেলে সব।
রবের তরে সিজদাহ দিলেই
কবিতা সব উৎসর্গ তবে
খেরোখাতায় হিজিবিজি
আবোল তাবোল লিখছে কবি।
জুন ১৯, ২০২২

স্বপ্ন বেঁচো

তোমরা যারা স্বপ্ন বেঁচো
হাজার ঘরে, বাজার দরে
বলতে পারো কেমন তরো ভাও?
বুকের ক্ষত লুকিয়ে রেখে
আয়েশ করে মধু মাসে
আম-মুড়ি মাখিয়ে খাও?
কক্সবাজার, জুন ২৫, ২০২৩

মৃত্যু আলিঙ্গন

মৃত্যু আলিঙ্গনে জন্ম আমার এই পৃথিবীর তরে

মৃত্যু গুনেই পার করিলাম জন্ম সমান তালে

অস্থিরতায় সাঙ্গ হলো ফুলসজ্জার রাত

সময়গুলো অসময়েই শেষ রইলো পরে বাত

পথ ফুরালো, রথ ফুরালো ছাড়লো রাহী হাত

মরবো বলেই প্রেমের গরল পান করিবার সাধ।।

 

হেলথ এন্ড হোপ, ঢাকা, জুন ২৮, ২০২২