ভালবাসার ছন্দ

তুমি আসতে যখন
বিদ্যালয়ে;
        থাকতাম তোমার পথ চেয়ে,
চুপি চুপি আড়
নয়নে
        চাইতাম তোমার পথপানে।
মৃদু মৃদু হাসি
তোমার
        তীর বসাত বুকে আমার।
চাইতে যখন আমার
দিকে
        বদন খানি হতো ফিকে।
কোন মোহিনী
যাদু বলে
        প্রেম নামেরই মায়াজালে,
অদৃশ্য এক
আকর্ষণে
        পুলক আমার জাগত মনে।
চলন তোমার বলন
তোমার বলন তোমার
        সব কিছুতেই ছন্দ।
সেই ছন্দ দেখেই
        লেগে গেল ভালবাসার দন্দ।
নামটি তোমার
মধুর অতি,
        চোখ ধাঁধানো রুপ।
ঐ কাজল চোখের
চাহনিতে-
        কাঁপত আমার বুক।
যতক্ষণ থাকতে
তুমি
        আমার নয়ন জুড়ে,
দেখতাম তোমায়
চুপিসারে
আমি বারে বারে।
যখন আমি একা
থাকি
        কল্পনার তুলি দিয়ে
ভালবাসার রং
নিয়ে
        তোমার ছবি আঁকি।
এই যদি হয়
ভালবাসা-
        ভালবাসি আমি।
তুমিই বল বিচার
করে
        করেছি কি দোষ আমি।
                        -ঝড়ের
পাখি

                        BE-OB-OC

ঈদের খুশি

এসেছে ঈদ,
নাইযে নিদ;
দু’ চোখেতে আজ
রাতে।
কাল সকালে করবো
যে ঈদ
গরীব দুখী এক
সাথে।
থাকবে না আজ
ক্সত-ক্লেশ,
দুঃখ ভুলিয়া
হাসবো।
একসাথে মোরা
গলাগলি
করে আনন্দেতে
মাতবো।
থাকবে না কেউ
চুপটি মেরে
একাকী ঘরের
কোণে;
আসবে সবাই ঈদের
মাঠে
হাসি খুশি মনে।
ফিরনি পায়েস
খাবো মোরা
করে কাড়াকাড়ি।
ধরা থেকে সব
দুঃখ উবে
যাবে তাড়াতাড়ি।
বাড়াবাড়ি হোক
না আজ
মা-বাবা কেউ
বকবে না,
খেলবো সবাই
হাসি খুশি মনে
ধমক দিয়ে কেউ
ডাকবে না।
মনের জানালা
খুলে দেবো আজ
সংকীর্ণতা
রাখবো না।
ঘুনে ধরা
সমাজটা আর
এমন ভাবে থাকবে
না।
শপথ নিলাম
নবীনরা মোরা
মহা মিলনের
দিনে-
ধরাটাকে মোরা
সাজাবো আবার
ফুল ফসল আর
গানে।
                -ঝড়ের পাখি

                OD-OE-OB

বদলে গেছো

হঠাৎ করে কেন জানি মনে হচ্ছে……
তুমি আর আমাকে আগের মত ভালবাসো না!
তুমি হটাৎ করে এমন কৃপণ হয়ে গেলে কেন?
ভালবাসার মাঝে এত দাড়ি, কমা, পূর্ণচ্ছেদ
কেন?
কেন তুমি এত হিসেবি হলে?
আমাকে ভালবাসতে শিখিয়ে-
তুমি আজ নিশ্চুপ কেন?
এখন আর গভীর রাতে ফোনটা বাজে না;
শুনিনা তোমার কণ্ঠস্বর; কিংবা আবেগী
অভিমান।
তুমি আর আগের মত চপলিনী নেই-
ধীর, শান্ত এক গভীর পুস্কনি।
তুমি কেমন জানি নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছ-
লাজ্জাবতীর বিষণ্ণ লাতার মতো।
চুপ! কথা বল না।
আমি তোমাকে ভালবাসবো, ভালবাসতে ইচ্ছা
হচ্ছে।
আমাকে তো আর আদর করো না!
না কি ভালবাস না?
          -ঝড়ের
পাখি

          BH-OG-OG

বর্ষার ক্ষণে

গুড়-গুড়
মেঘ ডাকছে,
দ্রিম
দ্রিম বাজ;
ছোট্ট
খোকা দেখে বলে
মেঘের
মাথায় তাজ।
ঝর-ঝর ঝর অঝর ধারে
ঝরছে শুধুই বারি,
আমি কেবল ভেবেই মরি-
দুঃখ কিবা তারি।
         
          যেমন
খুশি খেলছে সে
          মেঘের
সাথে আমার কেবল
          উড়তে
ইচ্ছা করে।
          তোমার
পরে রাগ হচ্ছে
          কাঁদছ
কেন ভায়,
          তোমার
কাঁদন দেখে আমার
          কান্না
ভারি পায়।
                            
                             মা বলছে আদর করে
ওরে দুষ্ট সোনা!
বাইরে আজি ঝরছে বারি,
খেলতে যাওয়া মানা।
আমি শুধুই ভাবছি বসে,
খেলার সাথী আছে বসে,
বাড়ী থেকে ঐ যে হোথা-
গাছটি মাঠের পাশে।
          আমার
কথা ভাবছে সে
          বসে
গাছের তলে,
          ঠিকই
সে ভিজছে এখন
          আকাশের
জলে।
          অভিমান
করে শেষে
          চলে যাবে বাড়ি।
          তাই
কেবল তোমার পরে
রাগ হচ্ছে ভারি।
আজকে কেন হঠাৎ করে
কাঁদছ মিছে বসে?
খেলা ধুলা ছেড়ে থাকতে হবে
ঘরের কোনে বসে।
         
খোকার ছোট্ট মনের মতো
          আমার
মনটা কেমন করে
মেঘের কাঁদার সাথে সাথে
কাঁদতে ইচ্ছে করে।
         
          কেউ
কাঁদে প্রিয়ার লাগি,
          কেউবা
পেটের টানে।
          কাল
যে তাদের উপোস যাবে
          জানে
সে তা জানে।
          কাজ
হয়নি আজকে তার
          চালও
নেই ঘরে
          এমন
করে অনেকে তাই
          কেঁদে
কেঁদে মরে।
                             -ঝড়ের
পাখি
                             ০৭-০৯-০৩

LOVE LETTER

ভাল লাগে তোমাকে
     তোমার চোখের মৃদু পলক
             ঠোঁটের ভীরু কাঁপন।
ভাল লাগে
       বৃষ্টিতে ভেজা
              চোখের পাপড়ি।

ভাল লাগে
        নাকের উপর
              বিন্দু বিন্দু ঘাম।

ভাল লাগে গোলাপী চিক
        ভালো লাগে কালো চুল;
                    চুলের গন্ধ-

ভাল লাগে
        কপালে দাপাদাপি
                  করা উড়ো চুল।

ভাল লাগে
      তোমার ছোঁয়া
                 স্পর্শ মৃদু মন্দ।

ভাল লাগে তোমার সানিধ্য;
          তোমার পাশে বসে
                  দুষ্টামি করতে।

তাই তোমাকে ভাল বাসি
            ভাল লাগে
                   তোমাকেই ভাল বাসতে।

                                         – ঝড়ের পাখি
                                           AC-OI-OF

প্রেম মাতাল

তোমার ঠোঁটে ঠোঁট ছোঁয়াবো
তোমার গালে গাল;
তোমার লালে লাল হবো যে,
আমি প্রেম মাতাল।।

তোমার চলায় পা মেলাবো,
রাখবো হাতে হাত-
তোমার চোখেতে চোখ রেখে
কাটিয়ে দেবো রাত।।
রাগবে তুমি অভিমানে-
করলে খুনসুটি;
স্বেচ্ছা করা বোকামিতে
হাসবে লুটোপুটি।।

-ঝড়ের পাখি
২২/০৮/১৩

সুন্দর তুমি

সুন্দর তুমি,সুন্দরতম,
সুন্দর থেকে সুন্দরময়,
জানি না এমন কেন বারে বারে
দেখতে তোমাকে চায়?
লুকিয়ে তাই চুপি চুপি-
তোমাকে দেখে যাই।
দরকার কি হিসাব কষার-
তোমাকে পাই বা না পাই?
চাঁদটকে দেখি ভাল লাগে তাই;
হয়তোবা ভালবাসি।
তাই বলে কি তাকে পাওয়ার
আকাঙ্খা মনে রাখি।
ভালবাসিও ফুলটাকে
গন্ধ-বর্ণ-রুপ সবই।
একাকীত্বে নির্জনতায়
তোমাকে হয় তো ভাব-ই?
হাসতে বুঝি পারে না সবাই;
দেখে তোমার হাসি-
সেই হাসি দেখেএই হৃদয়ে
বাজে বুঝি বাঁশি?
আকাশের ঐ লক্ষ তারা
তোমার চক্ষু তারায় দেয় ধরা,
বাঁচতে বুঝি কষ্ট হবে
এই জীবনে তোমায় ছাড়া?
                              -ঝড়ের পাখি                               ১৩-০৪-০৬
২০০৬ সালের ৮ ই মার্চ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২য় বারের মত ভর্তি হলাম। চোখে, মনে, হৃদয়ে প্রেম থই থই করছে। ছোট্ট জীবনে ২য় বারের মত একটি মেয়েকে দেখে মুগ্ধ হলাম। অপলক নয়নে চেয়ে থাকতাম। পরে জানলাম তিনি আমার ১ ব্যাচ সিনিয়ার। ও বলতে ভুলে গেছি তিনি আমার বিভাগেই পড়তেন। দ্বিধায় পড়লাম; তবে হতাশ হই নি। বুকে আশা ছিল হতেও পারে। তাকে দেখতাম আর কবিতা লিখতাম। তাকে নিয়ে লেখা শেষ কবিতা এটি।
কোন কথা হতো না, শুধু লুকিয়ে লুকিয়ে দেখতাম। চোখে চোখ পড়লে চোখ সরিয়ে নিতাম। কিন্তু তিনি বুঝতে পারতেন বলে আমার মনে হত। এবং ১ জন জুনিয়ার এর স্পর্ধা দেখে কিছুটা দ্বিধায় তিনিও ভুগতেন। যাই হোক বেশিদিন এই অভিযান চলে নি এক মাসের মাথায় জানলাম তিনি তারই ১ ব্যাচ ম্যাটের সাথে চুটিয়ে ……। সত্যি অনেক কষ্ট পায়নি। কেন জানি মনটা বড় হয়ে গেল। সকল দাবি দাওয়া ভুলে গিয়ে …… যাও তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম…
তারপর দীর্ঘ ৫ বছর একই বিভাগে একসাথে পড়াশুনা করেছি। এমনকি একই ক্যাম্পাসে একই প্রেম কাননে অন্য একটি মেয়ের সাথে আমিও…… উনিও হয়তো সময় এবং বাস্তবতায় আমাকে আর আম্লে আনেন নি।কোনদিন তেমন কিছু মনে হয় নি। তবে যখনই তাকে দেখতাম মনে হত তাকে জানাই আমার সেই স্বল্প দিনের ভাল লাগার কথা। কবিতা গুলো তাকে দিয়ে বলি …  “মনে পরে রুবি রায়, কবিতায় তোমাকে   একদিন কত করে দেকেছি…?’
না বলা হয় নি। কাপুরুশ কি না? কবিরা নাকি কাপুরুশ হয়। তাদের সকল পুরুষত্ব নাকি লেখনিতে?
এখন তিনি সংসার করছেন…দোয়া করি তিনি সুখে থাকুন, খুশি থাকুন।কবির এটুকুই কামনা।সুধু খেদ তাকে কবিতা গুলো দেয়া হল না।-বাহার

সৌন্দর্য হরণ

কাল এক
সুন্দরীকে দেখলাম-
শুধু
সুন্দরী নয়; অবশ্যই রূপসী।
গোধুলীর
ম্লান সৌর রশ্মি যখন
মেঘের
সাথে মিলে এক মোহময় বর্ণের সৃষ্টি করে-
গায়ের
বর্ণটি তদ্রূপ।
দেখা
মাত্র দৃষ্টি গেল আটকে!
উগ্র
সেন্টের- সুগন্ধে মন
হয়ে ওঠে
মাতোয়ারা।
মরিয়া
হয়ে ওঠে মন।
জাগে
দিদৃক্ষা।
পৃথিবীতে
কত না সুন্দরী
আছে চারিপাশে।
কিন্তু
সবাই কি শুধু চাঁদ হয়ে থাকবে?
তাকিয়ে
দেখতে দেখতে
ঘাড় হয়ে
যাবে ব্যাথা
চোখে
ধরবে জ্বালা।
কেন? কেন
ঐ চন্দ্রমুখীদের
ছুঁতে
পাবো না? কেন
থাকবে না
তারা মোর
সমান্তরালে?
কেন শুধু
দিবা স্বপ্ন
দেখে
দেখে মনটাকে
আর কত
দিন আন্দোলিত
করবো? আর
কত দিন
বেহায়ার
মত শুধু
করবো
সৌন্দর্য হরণ।

সুন্দরী অপ্সরীটাতো
আমার হাত
ধরে চলতে
পারতো।
পাড়ি
দিতে পারতো
শত
দুর্গম, কঙ্কটাকীর্ণ
পথ। হতে
পারতো
আমার
সহযাত্রী, সহজোগী।
না, না,
তা কক্ষনোই হবে না,
তা হবার
নয়!
কেননা,
আমি তো ইঁদুর কপালী।
শুধু
দীর্ঘশ্বাস, হতাশা।
দুঃখের
সাগরের অথৈ
জলে খেতে
হবে শুধুই
হাবুডুবু।
       ঝড়ের পাখি

BO-AB-OD

জীবনে তুমি

তুমি আমার,    আমি তোমার,
তুমি আমার     হৃদয় ভুমি,
প্রেম প্রীতি,      আশা ভালবাসা
  রয়েছ আমার হৃদয়ে তুমি।।
তোমার ঐ মুখ,          তোমার ঐ চোখ,
হৃদয়ে জাগায়             অতৃপ্ত ভুখ;
এত সুখ-শান্তি           এত পরিমল।
কোথা পাব আর বন্ধু তোমার মাঝে ছাড়া?
হৃদয় আমার              তোমার লাগি,
যেখানে থাকি             সদা থাকে জাগি,
স্বর্গ হতেও                শ্রেষ্ঠ সে আমার-
        মায়া ভরা ঐ মুখখানি।।
তোমার ঐ রুপ                    তোমার ঐ চুল।
ঝরনা ভাবিলে            তবু হবে ভুল।
পৃথিবীর আমি            যেখানেই থাকি-
 হৃদয় কাড়ে তোমার মিস্তি হাসি।।
দুঃখ সুখে        থেকো তুমি পাশে,
ভরিয়ে দিও      শুধু ভালবেসে;
অন্য কিছু       চাইনা আমি
     তোমার কাছে প্রিয়া।।
-ঝড়ের পাখি
২-১০-০০

চ্যাঁটিং

তোমাকে খুব মিস করছি…
কিন্তু তুমি অধরা হয়েই আছো,
এই আসো- ধুমকেতুর মতো
ক্ষণিকের আলো ছড়িয়ে হারিয়ে গেছো।
আমি খুব রাগ করেছি- পাখি,
সকালে করো না ডাকাডাকি।
পাখি যদি হতাম আমি
ছুটে যেয়ে করতাম লাফালাফি।
দূরে নাহি থাকিতাম
ডানা মেলে উড়ে যেতাম।
—-আমার রানীর কাছে……।

তোমার, মাঝে মাঝে কি যে হয়?
আমি বুঝি না,
তবু কেন কথা বলি
আমি জানি না।।
আমি আছি তোমারই পাশে,
যতক্ষণ তুমি আছ আমারই সাথে।
…… যেন  তুমি;
বিশ্বাস রেখ হৃদয়ে।
হাজার রাতের কথা;
যাবে কি এভাবে বলা?
পথে যদি হয় দেখা-
পায়ে পায়ে হবে কথা,
হাতে হাত –
মাঝে নিশ্চুপ,
এটুকুই মোর সুখ।
মনের কথা বুঝে নেবো,
চোখের ভাষা খুঁজে নেবো,
প্রাণে প্রাণ জাগিয়ে দেবো,
মনে প্রাণ মিলিয়ে মিলাবো।।

কথা দিবো না যদি রাখতে না পারি?
তবে যদি ডাকার মতো ডাক ফেলতে না পারি।
অভিলাশ আছে মনে মানুষ বলে-
গুনের প্রকাশ করি সকালে বিকালে।
উপদেশ নিচ্ছি, শুনছিনা কিছুই;
যদিও ভালো ছেলে- তবুও ছাড়ছি না পিছু ই।
ভালবাসায় ভালবাসা ভালোবেসে ভালবাসবো…
রাগ করো না অভিমানী,
কান ধরেছি এই আমি,
যদি না দেই শরীরে হাত-
কিভাবে কাটাবো পথ?
হোক না হোক বদনাম;
তবুও নেব তোমারি নাম।

তোমার আবার আমি হবো,
আমার হবে তুমি।  
তোমার ঠোঁটে ঠোঁট ছোয়াবো-
দেবো ও ঠোঁট চুমি।
কিভাবে বোঝাবো তোমাকে-
ভাষা যে নাই মুখে?
ক্লান্ত আমি হবো না, তবে
ঘাম ঝরবে সুখে।
ঘামবারি যদি হয় সুধা মৃদু?
তবে অমৃত তোমার অশ্রু
পান করবো- এক নিঃশ্বাসে।
অকৃত্রিম ভালবাসা আর বিশ্বাসে।
আশা করি প্রণয়ের…  
কারণ আমি জীবিত।
যেদিন সে আশা থাকবে না,
ভেবে নেবে মৃত।
                             -ঝড়ের পাখি
                             ১১-০৭-১৪