প্রেম মাতাল

তোমার ঠোঁটে ঠোঁট ছোঁয়াবো
তোমার গালে গাল;
তোমার লালে লাল হবো যে,
আমি প্রেম মাতাল।।

তোমার চলায় পা মেলাবো,
রাখবো হাতে হাত-
তোমার চোখেতে চোখ রেখে
কাটিয়ে দেবো রাত।।
রাগবে তুমি অভিমানে-
করলে খুনসুটি;
স্বেচ্ছা করা বোকামিতে
হাসবে লুটোপুটি।।

-ঝড়ের পাখি
২২/০৮/১৩

সুন্দর তুমি

সুন্দর তুমি,সুন্দরতম,
সুন্দর থেকে সুন্দরময়,
জানি না এমন কেন বারে বারে
দেখতে তোমাকে চায়?
লুকিয়ে তাই চুপি চুপি-
তোমাকে দেখে যাই।
দরকার কি হিসাব কষার-
তোমাকে পাই বা না পাই?
চাঁদটকে দেখি ভাল লাগে তাই;
হয়তোবা ভালবাসি।
তাই বলে কি তাকে পাওয়ার
আকাঙ্খা মনে রাখি।
ভালবাসিও ফুলটাকে
গন্ধ-বর্ণ-রুপ সবই।
একাকীত্বে নির্জনতায়
তোমাকে হয় তো ভাব-ই?
হাসতে বুঝি পারে না সবাই;
দেখে তোমার হাসি-
সেই হাসি দেখেএই হৃদয়ে
বাজে বুঝি বাঁশি?
আকাশের ঐ লক্ষ তারা
তোমার চক্ষু তারায় দেয় ধরা,
বাঁচতে বুঝি কষ্ট হবে
এই জীবনে তোমায় ছাড়া?
                              -ঝড়ের পাখি                               ১৩-০৪-০৬
২০০৬ সালের ৮ ই মার্চ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২য় বারের মত ভর্তি হলাম। চোখে, মনে, হৃদয়ে প্রেম থই থই করছে। ছোট্ট জীবনে ২য় বারের মত একটি মেয়েকে দেখে মুগ্ধ হলাম। অপলক নয়নে চেয়ে থাকতাম। পরে জানলাম তিনি আমার ১ ব্যাচ সিনিয়ার। ও বলতে ভুলে গেছি তিনি আমার বিভাগেই পড়তেন। দ্বিধায় পড়লাম; তবে হতাশ হই নি। বুকে আশা ছিল হতেও পারে। তাকে দেখতাম আর কবিতা লিখতাম। তাকে নিয়ে লেখা শেষ কবিতা এটি।
কোন কথা হতো না, শুধু লুকিয়ে লুকিয়ে দেখতাম। চোখে চোখ পড়লে চোখ সরিয়ে নিতাম। কিন্তু তিনি বুঝতে পারতেন বলে আমার মনে হত। এবং ১ জন জুনিয়ার এর স্পর্ধা দেখে কিছুটা দ্বিধায় তিনিও ভুগতেন। যাই হোক বেশিদিন এই অভিযান চলে নি এক মাসের মাথায় জানলাম তিনি তারই ১ ব্যাচ ম্যাটের সাথে চুটিয়ে ……। সত্যি অনেক কষ্ট পায়নি। কেন জানি মনটা বড় হয়ে গেল। সকল দাবি দাওয়া ভুলে গিয়ে …… যাও তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম…
তারপর দীর্ঘ ৫ বছর একই বিভাগে একসাথে পড়াশুনা করেছি। এমনকি একই ক্যাম্পাসে একই প্রেম কাননে অন্য একটি মেয়ের সাথে আমিও…… উনিও হয়তো সময় এবং বাস্তবতায় আমাকে আর আম্লে আনেন নি।কোনদিন তেমন কিছু মনে হয় নি। তবে যখনই তাকে দেখতাম মনে হত তাকে জানাই আমার সেই স্বল্প দিনের ভাল লাগার কথা। কবিতা গুলো তাকে দিয়ে বলি …  “মনে পরে রুবি রায়, কবিতায় তোমাকে   একদিন কত করে দেকেছি…?’
না বলা হয় নি। কাপুরুশ কি না? কবিরা নাকি কাপুরুশ হয়। তাদের সকল পুরুষত্ব নাকি লেখনিতে?
এখন তিনি সংসার করছেন…দোয়া করি তিনি সুখে থাকুন, খুশি থাকুন।কবির এটুকুই কামনা।সুধু খেদ তাকে কবিতা গুলো দেয়া হল না।-বাহার

সৌন্দর্য হরণ

কাল এক
সুন্দরীকে দেখলাম-
শুধু
সুন্দরী নয়; অবশ্যই রূপসী।
গোধুলীর
ম্লান সৌর রশ্মি যখন
মেঘের
সাথে মিলে এক মোহময় বর্ণের সৃষ্টি করে-
গায়ের
বর্ণটি তদ্রূপ।
দেখা
মাত্র দৃষ্টি গেল আটকে!
উগ্র
সেন্টের- সুগন্ধে মন
হয়ে ওঠে
মাতোয়ারা।
মরিয়া
হয়ে ওঠে মন।
জাগে
দিদৃক্ষা।
পৃথিবীতে
কত না সুন্দরী
আছে চারিপাশে।
কিন্তু
সবাই কি শুধু চাঁদ হয়ে থাকবে?
তাকিয়ে
দেখতে দেখতে
ঘাড় হয়ে
যাবে ব্যাথা
চোখে
ধরবে জ্বালা।
কেন? কেন
ঐ চন্দ্রমুখীদের
ছুঁতে
পাবো না? কেন
থাকবে না
তারা মোর
সমান্তরালে?
কেন শুধু
দিবা স্বপ্ন
দেখে
দেখে মনটাকে
আর কত
দিন আন্দোলিত
করবো? আর
কত দিন
বেহায়ার
মত শুধু
করবো
সৌন্দর্য হরণ।

সুন্দরী অপ্সরীটাতো
আমার হাত
ধরে চলতে
পারতো।
পাড়ি
দিতে পারতো
শত
দুর্গম, কঙ্কটাকীর্ণ
পথ। হতে
পারতো
আমার
সহযাত্রী, সহজোগী।
না, না,
তা কক্ষনোই হবে না,
তা হবার
নয়!
কেননা,
আমি তো ইঁদুর কপালী।
শুধু
দীর্ঘশ্বাস, হতাশা।
দুঃখের
সাগরের অথৈ
জলে খেতে
হবে শুধুই
হাবুডুবু।
       ঝড়ের পাখি

BO-AB-OD

জীবনে তুমি

তুমি আমার,    আমি তোমার,
তুমি আমার     হৃদয় ভুমি,
প্রেম প্রীতি,      আশা ভালবাসা
  রয়েছ আমার হৃদয়ে তুমি।।
তোমার ঐ মুখ,          তোমার ঐ চোখ,
হৃদয়ে জাগায়             অতৃপ্ত ভুখ;
এত সুখ-শান্তি           এত পরিমল।
কোথা পাব আর বন্ধু তোমার মাঝে ছাড়া?
হৃদয় আমার              তোমার লাগি,
যেখানে থাকি             সদা থাকে জাগি,
স্বর্গ হতেও                শ্রেষ্ঠ সে আমার-
        মায়া ভরা ঐ মুখখানি।।
তোমার ঐ রুপ                    তোমার ঐ চুল।
ঝরনা ভাবিলে            তবু হবে ভুল।
পৃথিবীর আমি            যেখানেই থাকি-
 হৃদয় কাড়ে তোমার মিস্তি হাসি।।
দুঃখ সুখে        থেকো তুমি পাশে,
ভরিয়ে দিও      শুধু ভালবেসে;
অন্য কিছু       চাইনা আমি
     তোমার কাছে প্রিয়া।।
-ঝড়ের পাখি
২-১০-০০

চ্যাঁটিং

তোমাকে খুব মিস করছি…
কিন্তু তুমি অধরা হয়েই আছো,
এই আসো- ধুমকেতুর মতো
ক্ষণিকের আলো ছড়িয়ে হারিয়ে গেছো।
আমি খুব রাগ করেছি- পাখি,
সকালে করো না ডাকাডাকি।
পাখি যদি হতাম আমি
ছুটে যেয়ে করতাম লাফালাফি।
দূরে নাহি থাকিতাম
ডানা মেলে উড়ে যেতাম।
—-আমার রানীর কাছে……।

তোমার, মাঝে মাঝে কি যে হয়?
আমি বুঝি না,
তবু কেন কথা বলি
আমি জানি না।।
আমি আছি তোমারই পাশে,
যতক্ষণ তুমি আছ আমারই সাথে।
…… যেন  তুমি;
বিশ্বাস রেখ হৃদয়ে।
হাজার রাতের কথা;
যাবে কি এভাবে বলা?
পথে যদি হয় দেখা-
পায়ে পায়ে হবে কথা,
হাতে হাত –
মাঝে নিশ্চুপ,
এটুকুই মোর সুখ।
মনের কথা বুঝে নেবো,
চোখের ভাষা খুঁজে নেবো,
প্রাণে প্রাণ জাগিয়ে দেবো,
মনে প্রাণ মিলিয়ে মিলাবো।।

কথা দিবো না যদি রাখতে না পারি?
তবে যদি ডাকার মতো ডাক ফেলতে না পারি।
অভিলাশ আছে মনে মানুষ বলে-
গুনের প্রকাশ করি সকালে বিকালে।
উপদেশ নিচ্ছি, শুনছিনা কিছুই;
যদিও ভালো ছেলে- তবুও ছাড়ছি না পিছু ই।
ভালবাসায় ভালবাসা ভালোবেসে ভালবাসবো…
রাগ করো না অভিমানী,
কান ধরেছি এই আমি,
যদি না দেই শরীরে হাত-
কিভাবে কাটাবো পথ?
হোক না হোক বদনাম;
তবুও নেব তোমারি নাম।

তোমার আবার আমি হবো,
আমার হবে তুমি।  
তোমার ঠোঁটে ঠোঁট ছোয়াবো-
দেবো ও ঠোঁট চুমি।
কিভাবে বোঝাবো তোমাকে-
ভাষা যে নাই মুখে?
ক্লান্ত আমি হবো না, তবে
ঘাম ঝরবে সুখে।
ঘামবারি যদি হয় সুধা মৃদু?
তবে অমৃত তোমার অশ্রু
পান করবো- এক নিঃশ্বাসে।
অকৃত্রিম ভালবাসা আর বিশ্বাসে।
আশা করি প্রণয়ের…  
কারণ আমি জীবিত।
যেদিন সে আশা থাকবে না,
ভেবে নেবে মৃত।
                             -ঝড়ের পাখি
                             ১১-০৭-১৪

জীবনের লক্ষ্য

মাতৃ ভাষা বাংলা- তাই পড়ি না বাংলা,
পরীক্ষা শেষে খাতায় পাই যে আন্ডা।
গনিতে অ্যালজেবরা আর ত্রিকোণমিতি,
 লাগে না ভাল কষতে জ্যামিতিক, পরিমিতি।
ভূগোলে পড়েছি আমি পৃথিবী নাকি গোল?
ইতিহাসের যুদ্ধ বিগ্রহ দেখে হয়ে যাই পাগোল!
অর্থনীতি, পৌরনীতি লাগে না মোটেই ভালো;
পদার্থেরই নাম শুনলেই মুখ হয়ে যায় কালো।
কৃষিতে ভাল লাগে না চাষ- বাসেরই কথা,
হাইয়্যার ম্যাথে গেলেই আমার মাথা করে ব্যাথা।
ইংরেজীর নাম শুনলেই জ্বর আসে গায়ে!
ধর্মকে দেখলেই পালাই আমি ভয়ে!
রসায়নে রস পাই না, জীবে পাই না ভাষা,
আমি নাকি ডাক্তার হবো বাপ-মায়ের এই আশা!!!
– ঝড়ের পাখি
৩-৯-০০

নারীর ক্ষমতায়ন বনাম পুরুষতান্ত্রিকতা

Ôডিম আগে না মুরগী আগে?Õ  এই বিতর্কটি সার্বজনীন
এবং অমীমাংসিত। ঠিক তেমনি, নারী কি পুরুষের সমকক্ষ? এই বিতর্কটিও বিশ্বজনীন; কিন্তু অমীমাংসিত নয়। শুধু তাই নয়, বিতর্কের ফলাফলও একপাক্ষিক। অর্থাৎ নারী পুরুষের সমকক্ষ কক্ষনোই নয়। সকল সমাজ, সংস্কৃতি সভ্যতায় নারীর অবস্থান পুরুষের চাইতে
অনেক অনেক
নিচুতে। জেনে রাখা ভাল যে, বিতর্কেরও
ফলাফল যারা নির্ধারণ করে
তারাও কিন্তু পুরুষ।
অর্থাৎ যারা বিচার কাজ সম্পন্ন করে তাঁরা হলেন বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ,
সমাজের বাস্তব দৃষ্টান্ত, সংস্কৃতি, দার্শনিক এবং সমাজ সংস্কারক। এই সবগুলো বিষয়ে পুরুষতান্ত্রিকতার এবং পিতৃতান্ত্রিকতার উৎকট গন্ধ পাওয়া যায়। আর সব সময় ফলাফলের পাল্লা পুরুষের দিকে ভারী হয়। ইতিহাস খুঁজে আজ পর্যন্ত কোন ধর্মের ধর্ম প্রচারক হিসেবে নারীকে পাওয়া যায় নি
(অন্তত আমার জানা মতে)।
ধর্ম দিয়েই সবচেয়ে বেশি নারীকে নিকৃষ্ট অবস্থানে দেখানো হয়। সংস্কৃতির
ত্রীসীমানায় নারীর পদচারণা নেই
(যদিও সংস্কৃতির সূচনা হয়েছে নারীর হাতে)।

পুরুষ তার নিজ স্বার্থে নারীকে প্রকৃতির শেকলে আবদ্ধ করেছে। সভ্যতা বুঝি অসভ্য হয়ে যায় নারীর স্পর্শে। তাই সভ্যতা আজও নারী বিবর্জিত। সমাজ সংস্কারের সিংহভাগই পুরুষ। যদিও কিছু সংখ্যক নারী সমাজ সংস্কারক বিদ্যমান। কিন্তু, সেই সমাজ সংস্কারককে ছাপিয়ে ওঠে পুরুষদের কৃতিত্ব। তাই বাঙ্গালী নারী মুক্তির পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার কাজে তার স্বামী শাখাওয়াত হোসেন এবং তার বড় ভাই ইব্রাহিম হোসেন সাবেরের কৃতিত্ব বেশি করে ফুটে ওঠে। খুব সহজ বাংলায় বললে, বেগম রোকেয়া এই দুই জন পুরুষের সহযোগীতা ছাড়া তাঁর পথচলা সম্ভব হতো না। সত্যিই কি তাই ?
এখন আসি আমাদের বর্তমান সমাজগুলোর
দিকে। দৃষ্টি ফেরাই আকাশ সংস্কৃতির (ডিশ এন্টেনা) দিকে। দেখে আসি ভারতীয় হিন্দী সিনেমা। ভাবতে অবাক লাগে কিভাবে আমাদের সংস্কৃতি অন্য সংস্কৃতির আগ্রাসনে ভূলুন্ঠিত। যাই হোক, বোম্বাই এর খুব নামকরা চলচ্চিত্র `চাক দে ইন্ডিয়া’
বাংলা
করলে এমন আসে `জেগে
ওঠো ইন্ডিয়া’। চলচ্চিত্র নাকি সমাজ জীবনের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। ফিরে আসি চলচ্চিত্রের গল্পে। গল্পটি আবর্তিত হয় প্রমিলা হকি দল নিয়ে। এই দলটি বিশ্বকাপ হকি খেলতে যাবে। নায়ক (হকি দলের কোচ) সারা ভারতবর্ষের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রমিলা খেলোয়ার বাছাই করে। কিন্ত, হকি বোর্ডের সদস্যরা বলে প্রমিলা হকি দল পাঠিয়ে কোন লাভ নেই। প্রথম পর্ব থেকে ওরা বিদায় নেবে। এই অর্থ শ্রম পুরুষ হকি দলের পিছনে খরচ করাই শ্রেয়। আমাদের নায়ক বীরোচিত ভাবে বোর্ডের সদস্যদের কাছে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয় পুরুষ হকি দল বনাম প্রমিলা হকি দলের খেলার। যদি প্রমিলা হকি দল খেলায় জেতে তবেই তারা বিশ্বকাপ খেলতে যাবে। যথারীতি তাচ্ছিল্যভরে গ্রহণ করে প্রস্তাবটি বোর্ডের সদস্যরা। খেলা শুরু হয় পরদিন। প্রথমার্ধে তিনটি গোল খায় নায়কের প্রমিলা হকি দল। নাস্তানাবুদ হয় পুরো প্রমিলা দল। দ্বিতীয়ার্ধে নায়কের অনুপ্রেরণায় প্রমিলা দল খুবই ভাল খেলে এবং একটি গোল না খাওয়ায় পাশাপাশি দুটি গোল পরিশোধ করে। শেষ বাঁশি বাজার পর ফলাফল দাড়ায় ২। দ্বিতীয়ার্ধে প্রচন্ড ভাল খেলার পরও পরাজয়ের ক্লান্তিতে ভেঙ্গে পরে পুরো প্রমিলা দল। বোর্ডের পুরুষতান্ত্রিক মতাদর্শে পুষ্ট সদস্যরা খুবই খুশি। কারন, প্রমিলা হকি দল বিশ্বকাপ খেলতে পারছে না। কিন্তু, পুরুষ হকি দলের সদস্যরা প্রমিলা দলের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে তাদের হকি স্টিক তুলে সম্মান জানায়। অর্থাৎ প্রমিলা দল বিশ্বকাপে যেতে পারবে।
এখানে বোঝানো হচ্ছে নারীরা কখনোই নিজের প্রচেষ্টায়
স্বাবলম্বী হতে পারে না। পুরষরাই নারীদেরকে করুণা করে। এটা শুধুমাত্র চলচ্চিত্রের গল্প নয়; বরং পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নিত্যদিনের চিত্র। যেটা পুরুষ তার নিজের সুবিধার জন্য প্রতিনিয়ত বিনির্মাণ করে যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠতে পারে চলচ্চিত্রের এই ঘটনার জন্য দায়ী কে? অবশ্যই পরিচালক, গল্পকার। যাঁরা অবশ্যই পুরুষ।
উচ্চ মাধ্যমিকের
বাংলা প্রথমপত্রের একটি গল্প হচ্ছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের
‘হৈমন্তী’।
গল্প শেষ হয় হৈমন্তীর মর্মান্তিক
মৃত্যু দিয়ে। আমরা বন্ধুরা মজা করতাম। বলতাম, হৈমন্তীর মৃত্যুর জন্য দায়ী কে ? উত্তরে বলতাম, ‘রবীন্দ্রনাথ’। একইভাবে যদি প্রশ্ন করিবিশ্বজনীনভাবে নারীর অধ:স্তনতার জন্য দায়ী কে? উত্তরঅবশ্যই পুরুষ।
পুরুষ তার নিজের জন্যই নারীকে অধ:স্তন করে রাখছে। বর্তমানে আকাশ সংস্কৃতির
সকল চ্যানেলের প্রচলিত একটি বিজ্ঞাপন হচ্ছে পুরুষদের রঙ ফর্সা করা ক্রিম- ‘ফেয়ার এ্যান্ড হ্যান্ডসাম’
এর।
যেখানে একজন ছেলে মেয়েদের রঙ ফর্সা করা ক্রিম ব্যবহার করে বলে চরম অপদস্থের স্বীকার হচ্ছে। বুঝানো হয় নারীদের ক্রিম ব্যবহার করা অপমানজনক।
তাই নারীদের কোন জিনিস ব্যবহার করা যাবে না। এর মাধ্যমে নারীকে নিচু হিসেবে কি উপস্থাপন করা হয়নি ? লিঙ্গীয় বৈষম্যকে পুঁজি করে আজ কর্পোরেট কোম্পানীগুলো পুঁজি হাতিয়ে নিচ্ছে। এবং এটি এমন সময় ঘটছে যখন সারা বিশ্বব্যাপী লিঙ্গীয় বৈষম্যের বিরুদ্ধে নারীরা তাদের আওয়াজ তুলছে। কিন্তু, পুরুষতান্ত্রিকতার বিনির্মাণ বুঝি চীনের প্রাচীরের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী আবার রাবণের মাথার মত পুনরুৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন।

নিজে একজন পুরুষ হয়েও পুরুষতান্ত্রিকতার নিষ্ঠুর, অত্যাচারী, নৃশংস রুপ দেখে শিউরে উঠি। অপরাধবোধ, পাঁপবোধ ঘিরে রাখছে আমাকে। মার্ক্স
যেমন
শ্রেণী সংগ্রামের
মূলনীতি হিসেবে অর্থনীতিকে দেখিয়েছেন। তেমনি সমাজতান্ত্রিক নারীবাদীদের বক্তব্যে নারীর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীহীনতাকে দায়ী করেন। কিন্তু, আমার চারপাশের নারীদেরকে দেখে বুঝে উঠতে পারি না তাদের কি দরকার? অর্থনৈতিক মুক্তি নাকি পুরুষতান্ত্রিকতা থেকে মুক্তি?

স্মৃতি

মাযে আমার হারিয়ে গেছে
অনেক বছর আগে,
মায়ের কথা পড়লে মনে
বুকে ব্যাথা লাগে।
পাই না এখন আমি আর
মায়ের আদর-স্নেহ।
ছোট্ট এই ছবিটুকুই
আছে শুধুই চিহ্ন।
মা বলে সেই মধুর ডাক
ডাকতে পারি না।
মায়ের ছবি এই হৃদয়ে
আঁকতে পারি না।
ছোট্ট বেলায় মা দেখাত,
আসমানের ঐ চাঁদ-
মায়ের স্মৃতি পড়লে মনে
ভাঙে অশ্রু নদীর বাঁধ।
ভাত নিয়ে কেউ বলে না আর
খোকা খেয়ে নে।
অসুখ হলে মা যে আমায়
কাঁদত বুকে টেনে।
সবাই একদিন যাবে চলে
জগতের এই রীতি,
তবুও বল যায় কি ভোলা
সেই যে মা এর স্মৃতি।।
-ঝড়ের পাখি
১১-০২-০১

ঈশ্বর মনে করেন – ভলতেয়ার

ঈশ্বর মনে করেন, সমস্ত কালোই খামারের সেকেলে (অবহৃত) জঞ্জাল (যন্ত্রপাতি),
ঈশ্বর মনে করেন, ইহুদীরা তার পুত্রকে হত্যা করেছে এবং তাদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।
ঈশ্বর মনে করেন, সাদা মানুষ মাত্রই শয়তান-
ঈশ্বর (মনে করেন), তারা (সাদারা) ঈশ্বরের মনের খবর জানেন।

ঈশ্বর  মনে করেন, আমাদের সকলের ইহুদীধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়া উচিত;
ঈশ্বর মনে করেন, আমাদের সকলের অবশ্যই খ্রিস্টান হতে হবে এবং 
অবশ্যই আমাদের সকলের ইসলামকে আলিঙ্গন করা উচিত;
ঈশ্বর মনে করেন, একমাত্র সত্য ধর্ম হচ্ছে হিন্দুধর্ম।

আর আমি-
আমি জানি, ঈশ্বর কি মনে করেন?-
ঈশ্বর মনে করেন, তুমি একটা পঁচা গলিত মাংস বই কিছুই নও।

ঈশ্বরের প্রথম পছন্দ একজন নাস্তিক!

ঈশ্বর মনে করেন, তোমার মত সকল মানুষই মন্দ,
ঈশ্বর মনে করেন, তোমার মত সকল মানুষই এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের জন্য (অপমানজনক/ কুলাঙ্গার) বিব্রত কর বিষয়;
 তুমি আত্মকেন্দ্রিক, ছোত মনের (হিসাবী), প্রথমে পাথর নিক্ষেপ কর
এবং পরে নিজের সুরক্ষার জন্য তাঁর নাম ব্যবহার কর।

ঈশ্বর মনে করেন, সূর্য পৃথিবীর চারপাশে ঘোরে-
ঈশ্বর মনে করেন, কোপারনিকাস বিভ্রান্তিতে ছিলেন, 
ঈশ্বর মনে করেন, গর্ভপাতএকটি হত্যাকান্ড এবং
ঈশ্বর মনে করেন, বিজ্ঞান আমাদের যা কিছু দিয়েছে সবকিছুই ভুল।
ঈশ্বর মনে করেন, মহিলাদের এটা (গর্ভ ধারন এবং স্নতান জন্মদান) প্রাপ্য;
ঈশ্বর মনে করেন, এইডস এক প্রকার শাস্তি,

আমি তাদের ঘৃণা করি, যারা নিজের দূর্বলতার জন্য শয়তানকে দোষারোপ করে এবং

আমি তাদেরও ঘৃণা করি, যারা  ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দেয় যখন সবকিছু তার মনমত হয়।

আর আমি-
আমি জানি ঈশ্বর কি ভাবেন!
ঈশ্বর মনে করেন  তুমি একটা গাধা (ইডিয়ট);

ঈশ্বরের প্রথম পছন্দ একজন পাষণ্ড!

ঈশ্বর! ঈশ্বর!
ঈশ্বর মনে করেন,  তোমার মত সকল মানুষই মন্দ,
ঈশ্বর মনে করেন,  তোমার মত সকল মানুষই এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের জন্য (অপমানজনক/ কুলাঙ্গার) বিব্রত কর বিষয়;
তুমি আত্মকেন্দ্রিক, ছোত মনের (হিসাবী),  প্রথমে পাথর নিক্ষেপ কর
এবং পরে নিজের উদ্দেশ্য হসিলের তাঁর নাম ব্যবহার কর।

ঈশ্বর হলেন উদার,
ঈশ্বর হলেন একজন ডেমোক্র্যাট, 
ঈশ্বর চান তুমি রিপাবলিকানে ভোট দাও।
সেই মানুষকে কক্ষনো বিশ্বাস করো না, যে কথায় কথায় ঈশ্বরের নাম মুখ আনে
এবং বলে যে এটা পরম সত্য;
বরং তা একেবারে মিথ্যা এবং তা থেকে মৃত্যুর গন্ধ আমি (ঈশ্বর) পাচ্ছি।
এটা এমন কাজ- যেন কোন গরীবের সারা দিনের উপার্জন কেড়ে নেয়া।
তোমারা এটি ভাবলে কি করে যে ঈশ্বরের দরকার
তোমার ঐ নোংরা অর্থের?
যদি তিনি একটি পবিত্র যুদ্ধ শুরু করতে চান?

আত্মকেন্দ্রিক, ছোত মনের (হিসাবী),  প্রথমে পাথর নিক্ষেপ কর
এবং পরে নিজের সুরক্ষার জন্য তাঁর নাম ব্যবহার কর।

ঈশ্বরের মনে করেন অহংকারী যুবকদের মরে যাওয়া প্রয়োজন এবং
ঈশ্বর মনে করেন শিশুদের ডুবে মরে যাওয়া প্রয়োজন !

‘কারণ ঈশ্বর যেমন ভাল না ! তেমনি খারাপও না!
ঈশ্বর মানে তুমি এবং ঈশ্বর মানে আমি।
ঈশ্বর সবকিছু/ সবকিছুই ঈশ্বর।
             -ভাষান্তরঃ বাহার
              ৯/৯/১৩, নারায়ণগঞ্জ।