মিলন

যে জলে আগুন জ্বলে

সে জল নির্গমনেই প্রশান্তি

জল আর পাথরের মিলনে

ক্ষয়ে যায় পাথর বয়ে চলে জল

সম্মুখে সময়ের পরিক্রমায়

তেমনই ক্ষয়ে যাবো মোরা দুজনেই

ক্ষয়ে ক্ষয়ে মিশে যাবো শূন্যে

যে জলকনায় থেকেই সৃষ্টি

তবু মিলন আমাদের অনিবার্য

মহাবিশ্বের অমোঘ নিয়মে।।

 

 

শুনতে ও দেখতে চাইলে

https://youtu.be/_JeI8GJ8woQ

অস্থি

তোমার গায়ের গন্ধে এলেমেলো হয়ে যাই

পাগলের মতো ঘুরতে থাকি চতুর্দিক

নেশা জাগায়, মনে, অন্তরে শরীরে

আগুন জ্বলে- পেতে চায় তোমার স্পর্শ।।

 

তোমাকে আর পাওয়া হয় না- স্বপ্নেও

পাই ঘ্রাণ, অগ্রহায়ণেও ফসলের সোঁদা গন্ধেও

এই বদ্ধ ঘরে জ্বালাই না ধুপ- পাছে মুছে যায়

খুলি না জানালা-যদি উবে যায় সেই ঘ্রাণ

বসন্তের দক্ষিণা বাতাসে -ফুলেল সুঘ্রাণে।।

 

আমি চেটেপুটে খাই তোমার ঘাম তৃপ্তিতে

মেখে নিই ঘ্রাণ হাতে-গায়ে-মুখে স্বস্তিতে

তুমি তো মিশে আছো মোর সকল অস্তিত্বে

পুড়িয়ে ফেলো দেহ খুঁজে পাবে শেষ অস্থিতে।।

অনীহা

তোমাকে ভুলে থাকার অপরাধে

হয়ে যাক ফাঁসি

হাঁসি মুখেই মেনে নেবো।

তারপর ভুত হয়ে করবো বসবাস

তোমার জীবনে অগোচরে

নির্দিধিয়ায় আজীবন অনীহায়।

অস্তিত্ব

জীবনের সাথে সাথে বয়ে নিয়ে চলা
এক সফেদ মেঘের স্বপ্ন
পাখির ডানায় ভর করে উড়ে চলা
এক আকাশ থেকে অন্য আকাশে
ভেসে বেড়ানো সমুূদ্রের ঢেউ ঢেউ
হয়ে পুরনো প্লাস্টিকের ছোট্ট আবর্জনা।।
আমার অস্তিত্ব তোমার মাঝেই, আমাদের স্মৃতিতে
মিশে যাবে, মিলিয়ে যাবে পঞ্চভুতে মৃত্যুতে
বাঁচিয়ে রেখো আমাকে যতোদিন বাঁচো তুমি
ভালোবাসা, স্নেহে, আদরে, আনাদরে, অনুযোগে
তবুও বাঁচিয়ে রেখো আমায়- তুমিই আমার ।।

পূজা ঊৎসব

আমার যেমন ঈদ আছে ভাই
তোমার আছে পূজা।
ধর্ম বলো, কর্ম বলো-
আমরা যে পাই মজা।
ঈদে যে খাই সেমাই- পায়েস
পূজোতে মিষ্টি -নাড়ু;
ঢাকের তালে নাচে রে মন-
নাচে ছেলে বুড়ো।
পুজো মানে সপ্তাহ জুড়ে
উৎসবেরই সাজ।

হোক না আজ বাড়াবাড়ি
কামাই দিয়ে কাজ।

নানান পূজার ভিড়ে
আমার কাছে দূর্গা-
মা তুমি বিপদ-তাড়িনি,
বলি দূর্গা- দূর্গা-দূর্গা।

অর্ধাংগ-

আমি ততটা খারাপ যতোটা না ভালো
আমি ততটাই মিথ্যা ঠিক যতটা সত্য
আবার যতোটুকু দোষ আছে ঠিক সমপরিমাণ গুণ
যতোটা ভুল করেছি জীবনে ঠিক ততটাই করেছি সঠিক
আমার মাঝে সৃষ্টিকর্তা দোষ-গুণ, ভালো-খারাপ সবকিছুর সমন্বয়ে তৈরি করেছেন
আমাকে যদি ভালোবাসো- তাহলে আমার গুণগুলোর সাথে সাথে
আমার দোষগুলোকেই কেউ নিতে হবে
যদি আমার দোষকে অবহেলা করো তাহলে আমাকে আর পাবে না
দোষগুলো ছাড়া আমি স্থবির এক পাথুরে মুর্তি
সেটা নিয়ে যদি খুশি থাকো তাহলে ভালোই।
আমাকে যদি কিছু বদলাতে চাও বদলাবো
তবে তুমি আমাকে আর সেই আগের আমাকে পাবে না
আমি বদলে এক নতুন আমিতে পরিণত হবো
জানি না সেই সেই নতুন আমির মাঝে
তোমার সেই ভালোলাগার আমাকে পাবে কিনা?
আবার যে বিষয়গুলো তোমাকে আকর্ষিত করতো
সেগুলো আর নাইবা থাকতে পারে আমার মাঝে
কেননা আমার দোষ গুলো সংশোধন করতে করতে
আমার গুণগুলোও যে কখন হারিয়ে গিয়েছে
আমার মত তুমিও বুঝতে পারবে না
তখন আবার যেন আমাকে দোষ দিওনা
আক্ষেপ করে বলো না
“তুমি আর আগের মত নেই
অনেকখানি বদলে গেছো”
আমি যে তোমার কারণেই বদলে গেছি
তোমার অপছন্দের অভ্যাস গুলো বিদায় করে দিয়েছি জীবন থেকে
কিন্তু আমার অজান্তেই সাবলীল অভ্যাসগুলোও বিদায় নিয়েছে-
আমি এখন মিথ্যা বলি, ভিন্ন পথে চলি
চাল-তেল-নুন আর খুচরো পয়সার হিসাব রাখি
শুধু তোমার চোখের নিচের কালি, কপালের বিরক্তির ভাঁজের হিসাব রাখি না।
চাঁদ-জোসনা সবই দেখি, দেখি নতুন পোশাক গয়না
তোমার আহ্লাদীপনা, আভিমান আর প্রাণে সয় না।
অভিনয় ভালোই শিখেছি-
রাগ হলে আর রাগি না
কান্না পেলে কাঁদি না
হাসি মুখে গুপ্ত রাগে
খুন করে ফের কাশি না।
আমাকে যদি পছন্দ করো-
আমাকে যদি ভালোবাসো-
আমাকে যদি কাছে টানো-
তবে আমার সৌন্দর্যতার সাথে সাথে কদর্যতাকেও
জানতে হবে, মানতে হবে- মনে নিতে হবে।
তবেই আমার সম্পুর্ণ আমাকে পাবে
নতুবা আমি অসম্পূর্ণ, …… অর্ধাংগ-
February 7, 2021

পূজা ঊৎসব

আমার যেমন ঈদ আছে ভাই
তোমার আছে পূজা।
ধর্ম বলো, কর্ম বলো-
আমরা যে পাই মজা।
ঈদে যে খাই সেমাই- পায়েস
পূজোতে মিষ্টি -নাড়ু;
ঢাকের তালে নাচে রে মন-
নাচে ছেলে বুড়ো।
পুজো মানে সপ্তাহ জুড়ে
উৎসবেরই সাজ।
হোক না আজ বাড়াবাড়ি
কামাই দিয়ে কাজ।
নানান পূজার ভিড়ে
আমার কাছে দূর্গা-
মা তুমি বিপদ-তাড়িনি,
বলি দূর্গা- দূর্গা-দূর্গা।

খেলার ছলে প্রেম

ভুলে যেতে বলেছো- তুমি আমাকে।
কেমনে ভুলবো বল তোমাকে?
ভালোলাগা, ভালোবাসা নয় যে খেলা
প্রেম নয়…….. প্রিয়, পুতুল খেলা।
খেলতে তুমি যেমন খুশি তোমার মনের খেলাতে
ভেঙে দিতে আবার যখন তখন অসম্পূর্ণ খেলাতে,
কিন্তু তুমি কাওকে নিয়ে খেলতে পারোনা ছেলেখেলা।
ভালোবাসলে না মোরে নাইবা তুমি-
আমার জীবন নিয়ে খেল কেন- ছিনিমিনি?
রাজার দুলালী হওবা তুমি; আমি পথে ফোটা ফুল,
ছিড়তে না তুমি যদি; হতো না কভু …ভুল।
তোমারি বুকে আজ জমে ভালোবাসার খেলা
দু:খ আমাকে নিয়ে পাতে কষ্টের মেলা।
প্রেম নয়……… প্রিয়, পুতুল খেলা ।
……………………….

2002

জলাঞ্জলি

থাক না কিছু জলাঞ্জলি
অঞ্জলির মাঝে।
সব কিছু যে কাব্য হবে
কে বলেছে কবে।
হোক কিছু ছড়াছড়ি-
ছড়াগুলোর ফাঁকে।
কিছু না হয় রঙের লেপন
রঙ তুলির আঁকে।
কিছু হল ভাব বিনিময়
ভালোবাসার ঝাঁকে।
কস্টগুলো ডিম পাড়ুক আজ-
লাল- নীল এ্যালবামে।
কিংবা ঝরুক অভিমান সব
বৃষ্টি গুলোর নাকে।
আমি না হয় উড়েই যাবো-
মৃদু এক ফুঁৎকারে।
তোমরা যারা টিপ টপ টপ
গোছানো ক্যনভাসে।
কিংবা বেশ দাপুটে
নিজস্ব আত্মবিশ্বাসে।
আমি তখন দোদুল্যমান
আত্ম অবিশ্বাসে।

নীরবতা

নীরবতাও একধরনের শব্দ।
তুমি একবার শুনে তো দেখো।
তোমাকে ছুঁয়েই সে আন্দোলিত হবে
কোন একদিন বাড়ীতে তাকে ডাকো
সে কথা বলার জন্য হয়ে আছে উন্মুখ ।
তাকে কিছু কথা বলতে দাও।
নীরবতা তোমার… আমার …
নীরবতা জড়িয়ে আছে-
নীরবতায়…
তুমি কি কখনো বেড়িয়েছো সেই গলি?
বহু আগেই সেখানে হারিয়েছে পৃথিবী-
আমার সময়গুলো কিন্তু সেখানেই থমকে আছে।
তোমাকে বলতে চাই আমার সাথে কি কি হয়েছে।
নিরবতা যেন এক ধাঁধা-
তুমি মিলিয়ে তো দেখো-
নীরবতা এক সুরের মূর্ছনা-
আসো এক সাথে গুনগুনাই…
সে কথা বলার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে।
তাকে কিছু কথা বলতে দাও।
নীরবতা তোমার… আমার …
নীরবতা জড়িয়ে আছে-
নীরবতায়…
নদীর পানিও এখানে নিরবে বয়ে যায়-
মায়াবী জ্যোৎস্নায়ও রয়েছে লাখো নীরবতা।
বৃষ্টির ফোটারও থাকে কি কণ্ঠ?
ব্যথিত হৃদয়েও ওঠে নীরবতার ধোঁয়া।
নীরবতা এক বিশাল আকাশ –
তুমি উড়তে তো আসো সেখানে-
নীরবতা এক উপলব্ধি-
তুমি কি করতে পারো তাকে অনুভব?
সে কথা বলার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে।
তাকে কিছু কথা বলতে দাও।
নীরবতা তোমার… আমার …
নীরবতা জড়িয়ে আছে-
নীরবতায়…
………………………
গানটা অবশ্যই সুন্দর। কিন্তু এর কথা আমার কাছে যেন এক মোহ! এতো সুন্দর ভাবে মানুষ ক্যম্নে লিখতে পারে? যদি এর ভাবানুবাদ
একধরণের দুঃসাহস! তবু মনের শান্তনা। Rashmi Singh মুল গানটির গীতিকার।